মো. রিয়াদুল ইসলাম
করোনায় গ্রাস করা পুরো পৃথিবী। বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খোলা নেই উপকূলীয় অক্সফোর্ড খ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও (নোবিপ্রবি)। সকালের রক্তিম সূর্যের আলো ছড়িয়েছে চারপাশে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তরে চিত্রিত হচ্ছে হরেক রূপ। হল থেকে বেরিয়ে ছুটছে কেউ ক্যান্টিনের দিকে, কেউবা আবার ক্ষুধার্ত পেটে অলসতাকে সঙ্গী করে ছুটছে একাডেমিক ভবনগুলোর দিকে। এদিকে লাল-নীল বাসে করে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্যাম্পাসে পৌঁছাচ্ছে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা। আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত যখন ক্যাম্পাস তখন কেউ ছুটছে সিটি, অ্যাসাইনমেন্ট, সেমিস্টারের প্যারা নিয়ে নিজ ক্লাসরুমের দিকে, করছে পুরোদমে ক্লাস। ডিপার্টমেন্টের পড়া শেষ করে কেউ ছুটছে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দিকে। অনেকের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে পরিবারকে সামলানো ও চাকরির চাপ, একগুচ্ছ বই হাতে নিয়ে বসে পড়েছে লাইব্রেরির এক কোনায়। ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা ভোগ করতে করতে কিছু শিক্ষার্থী নিজ একাডেমিক সমস্যা সমাধান করছে ডিপার্টমেন্টের মেধাবী ও পরিশ্রমী বন্ধুর কাছে। গ্রুপ স্টাডির ফাঁকে চলে কিছুটা মজার আড্ডা। ওদিকে ল্যাবের লাগামহীন প্যারা মাথায় নিয়ে জ্ঞান অর্জনের নেশায় তৃষ্ণার্ত কিছু শিক্ষার্থী। এদিকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অথবা ক্লাসের শিডিউল না থাকায় বিভিন্ন জায়গায় বসে আড্ডা দিচ্ছে কিছু শিক্ষার্থী, জমেছে একত্রে।
করোনার থাবায় বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাস ছেয়ে গেছে গাছ, লতা, ঝোপ, ঝাড়ে। শিক্ষার্থীদের প্রাণের আড্ডাস্থল শান্তিনিকেতনের টং দোকানগুলো আজ ফাঁকা। নেই চায়ের চুমুকে আড্ডা, নেই গিটারের তালে গানের সুর। সেখানে পাখির কিচিমিচির শব্দে আজ ভরপুর। কেন্দ্রীয় মাঠে নেই খেলাধুলাপ্রেমীদের আনাগোনা, নেই ক্রিকেট বোলিংয়ে টানটান উত্তেজনাকর সেই উচ্ছ্বাস। ফুটবল পায়ে ছুটে চলা দুরন্ত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও চোখে অধরা। দীর্ঘ এই বন্ধে এ মাঠ লতা-পাতা ও গাছদের দখলে। নীলদিঘির সেই পাড়ে নেই জন্মদিন পালন, চড়ুইভাতি উদ্যাপন, নেই আগের মতো কোনো না কোনো ক্ষুদ্র জমকালো অনুষ্ঠান। ভালোবাসার মানুষটির কাঁধে কাঁধ রেখে খোশগল্পের চিত্রটিও সেখানে আজ দৃষ্টিতে অধরা। কখনো বিকালে, আবার কখনো বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যার আগমনে শহিদ মিনার মঞ্চ থাকত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উল্লসিত। নাচে, গানে, অভিনয়ে, বিতর্কে ভরপুর থাকত এ প্রাঙ্গণ। রাতের গানের আড্ডার ব্যতিক্রম ছিল না গোলচত্বর ও শান্তিনিকেতনও। স্মৃতিতে দোলা দিয়ে করোনার এই ছুটিতে ক্যাম্পাস সেজেছে নিজের মতো করে। নানান রূপে সৌন্দর্য ধারণ করেছে নোবিপ্রবি।
করোনার এই অপ্রত্যাশিত দীর্ঘ ছুটিতে ক্যাম্পাসের এসব আড্ডাস্থল হাতড়ে বেড়াচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বেলা শেষে মনে হয় যদি আবার ফিরে পেতাম সেই ক্যাম্পাসের আড্ডা। করোনামুক্ত পৃথিবীতে ফিরব ক্যাম্পাসে। কোলাহলে, আড্ডা-গানে, প্রাণমুখর হবে প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রান্তর।
