সারা দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির লটারি আজ সোমবার বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় কেন্দ্রীয়ভাবে এ লটারির কার্যক্রম চলবে। উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বিকেল ৫টা থেকে নির্ধারিত লিংকগুলোতে ফলাফল প্রচার শুরু করা হবে। লটারি কার্যক্রম ইউটিউব ও ফেসবুক লাইভে প্রচার করা হবে। ভর্তির লটারি নির্ভুল করতে দুই দফা ট্রায়াল লটারি করা হয়েছে। তবে ম্যানুয়ালি না করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ লটারির আয়োজন নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নানা উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। লটারির গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছেন। সারা দেশে ৬৮৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও সব বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি নেই। এসব বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এছাড়া সব বিদ্যালয় এখনো অনলাইনে ভর্তির প্রক্রিয়ায় আসতে পারেনি। এ কারণে এ বছর ৩৯০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হচ্ছে।
৩৯০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে শূন্য আসন আছে সর্বমোট ৭৭ হাজার ১৪০টি। আর এসব আসনে ভর্তির জন্য এবার অনলাইনে আবেদন জমা পড়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৯টি।
দুই দফায় গত ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এবার ভর্তির আবেদন টেলিটকের নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে নেওয়া হয়। প্রথম দফায় গত ১৫ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তির আবেদন নেওয়া হয়েছিল। ৩০ ডিসেম্বর ভর্তি লটারির নির্ধারিত দিন ছিল। তবে নির্ধারিত শ্রেণিতে ভর্তির নির্ধারিত বয়সের চেয়ে কয়েক দিন কম হওয়ার কারণেও বিপুলসংখ্যক ভর্তিচ্ছু আবেদন করতে পারেনি। এ নিয়ে মুন্সীগঞ্জের এক শিক্ষার্থীর বাবা মিজানুর রহমানের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ২৯ ডিসেম্বর ভর্তি আবেদনের সময় আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১১ বছর বয়সের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া শর্তটিও স্থগিত করে হাইকোর্ট। ফলে ১১ বছরের কম বয়সি শিক্ষার্থীদেরও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না।
উচ্চ আদালতের এ আদেশের পর সেদিনই ভর্তি লটারি স্থগিত ঘোষণা করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। পরে আবেদনের সময় আরো সাত দিন বাড়িয়ে ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত নেওয়া হয়।
লটারির ফলাফল তাত্ক্ষণিকভাবে টেলিটক ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজ নিজ স্কুলের প্রতিষ্ঠানের মেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নির্ধারিত লিংকে গিয়ে প্রতিষ্ঠান সেটি প্রিন্ট করে স্কুলে নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেবে।
