নেত্রীর কাছে ১১ নেতার নাম পাঠিয়েছি, আমার মৃত্যু হলে এরা দায়ী -------- আবদুল কাদের মির্জা

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৫৪

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘গায়ের জোরে ভোট করতে পারবেন না, ভোট জালিয়াতি করতে চেষ্টা করবেন না, ভোট জালিয়াতি করলে সেই কেন্দ্রে প্রয়োজনে ১০ বার ভোট হবে। কারো বাবার শক্তি নাই ভোটকেন্দ্র দখল করার।’

গতকাল রবিবার সকালে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়ায় এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। কাদের মির্জা আরো বলেন, ‘আমি নোয়াখালীর ১১ জন দুর্নীতিবাজ নেতার নাম নেত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। আমাকে মেরে ফেললে নেত্রী এদের বিচার করবেন। অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে, আকাশে-বাতাসে বারুদের গন্ধ পাচ্ছি, যে কোনো সময় আমার জীবনের অবসান হতে পারে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা বলেন, ‘বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে ওবায়দুল কাদের আমার সাথে নাই, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও আমার সাথে নাই। নোয়াখালী ও ফেনীর আওয়ামী লীগ আমার বিরুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্র বানাইছে। ডিসি, এসপি, জেলা নির্বাচন অফিসার আমার সাথে নেই। আমাদের কিছু নেতাকর্মী আছে, আমার ভোটও করে আবার বিএনপির প্রার্থীর ভোটও করে। আমি সত্য কথা বলছি। কিন্তু আপনারা জনগণ আমার সাথে আছেন।’

তিনি বলেন, ‘নারায়াণগঞ্জের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু টকশোতে বলেছেন, আমার এলাকায় দলে নাকি কোন্দল আছে। আমি নাকি ভোটের মাঠ গরম করার জন্য এসব কর্মকাণ্ড করতেছি। আমি এমপি সাহেবকে বলতে চাই, আমার এলাকায় দলে কোনো কোন্দল নাই। এমপি সাহেব আমার বয়সে ছোট, আল্লাহ তাকে এমপি বানিয়েছেন। আমি ঢাকায় পড়ালেখা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওবায়দুল কাদের সাহেব আমাকে বলে, তুমি চট্টগ্রামে ভর্তি হও। ঢাকায় ভর্তি হলে আমি বড় নেতা হয়ে যাব। তিনি আমাকে রাজনীতিতে এগিয়ে যাবার সুযোগ দেন নাই। আমি ঢাকায় ভর্তি হলে বড় নেতা হয়ে যাব, সেটা তিনি চান নাই।’

মির্জা কাদের আরো বলেন, ‘ফেনীর এমপি নিজাম হাজারী বলেন, তিনি নাকি বিএনপির দুর্গ ভেঙেছেন। কতটুকু দুর্গ ভেঙেছে দেশবাসী সবই জানে। এদের দুর্নীতির ইতিহাস, হত্যার ইতিহাস, অনিয়মের ইতিহাস সবাই জানে। সুষ্ঠু ভোটে এরা এমপি নির্বাচিত হলে আমি হিজরত করব। তাদের জামানত থাকবে না।’ তিনি ডিসি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি একরাম চৌধুরীর মাস্ক মুখে লাগিয়েছেন। আপনি এই মাস্ক লাগাতে পারেন না। আপনি নোয়াখালী জেলার অভিভাবক, আপনি থাকবেন নিরপেক্ষ।’

পথসভায় কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজিম, স্থানীয় নেতা আইয়ুব আলী, চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।