নার্সিং শিক্ষা ও সেবা খাতে আমূল পরিবর্তন

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০৭

প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন নার্স নেতাদের

বিশেষ প্রতিনিধি

বর্তমান সরকারের আমলে নার্সিং শিক্ষা ও সেবা খাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সরকারের আমলে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সদেরকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেন। সমাজের মধ্যে নার্সদের মানমর্যাদা বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে নার্সদের বয়স বিবেচনা করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বয়স ৩৬ বছর প্রমার্জন করে ৪ হাজার ১০০ জন নার্স নিয়োগ দান করেন। ২০১৪ সালে বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব কেপিজি হাসপাতালের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ হাজার নার্স নিয়োগের ঘোষণা দেন। যার সফল বাস্তবায়ন হয় ২০১৬ সালে। নার্সিং শিক্ষায় যোগ করা হয় মিডওয়াইফারি নার্স। গড়ে তোলা হয় নতুন নতুন নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

নার্সিং শিক্ষা ব্যবস্থা তথা সমগ্র নার্সিং পেশা একসময় সেবা পরিদপ্তর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল, যা ২০১৬ সালে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নিজস্ব ভবন মহাখালীতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে আবারও জনমানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরো ৫ হাজার ১০০ নার্স ১ হাজার ২০০ জন মিডওয়াইফ নার্স নিয়োগ দেন। ২০২০ সালে করোনা রোগীদের সেবাদানে ৫ হাজার ৫৪ জন নার্স নিয়োগ দেন। বর্তমানে আরো প্রায় বিপুল সংখ্যক নার্স নিয়োগের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই জন্যই বাংলাদেশের নার্সরা মনে করেন—প্রধানমন্ত্রী নার্স মাতা, নার্স দরদি। নার্সিং শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশেই প্রতিষ্ঠিত করেন একটি জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (নিয়ানার), বর্তমানে এর আসন সংখ্যা ৬০টি থেকে বৃদ্ধি করে ১২০টি তে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া নার্সিং শিক্ষা ক্ষেত্রে এ সরকারের আমলে এসেছে বেশ কিছু অর্জন। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো : কলেজ অব নার্সিং মহাখালীতে মাস্টার্স কোর্সে ১০টি বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন। বর্তমানে পাঁচটি সরকারি কলেজে পোস্ট বেসিক বিএসসি কোর্স চলমান রয়েছে এছাড়াও নতুন করে পাঁচটি বিভাগীয় কলেজে ২০টি করে মোট ১০০টি আসনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, করোনার সময়ে প্রধানমন্ত্রী নার্সদের যে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছেন এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব (স্বাস্থ্য সেবা) আব্দুল মান্নান ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব (স্বাস্থ্য শিক্ষা) আলী নূরের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ) মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন নার্সদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাবেন  বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাইল আলী সাদেক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নার্সবান্ধব সরকার। এই সরকারের আমলে নার্সদের যে উন্নয়ন হয়েছে স্বাধীনতার পরে অন্য কোনো সরকার তা করতে পারেনি।