ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশপ্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ প্রদান করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারকে ১৫ কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে হাসপাতালে রোগীদের অধিকার রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা এবং দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ইউনাইটেড হাসপাতালের অনুমতি কেন বাতিল করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৭ মে রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৫ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবার। ঐ রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাত্ক্ষণিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ লাখ টাকা করে প্রদানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী অনীক আর হক, হাসান এম এস আজিম, মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ, নিয়াজ মোহাম্মদ মাহবুব শুনানি করেন।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গত বছরের ৩০ মে হাইকোর্টে একটি রিট করেন আইনজীবী নিয়াজ মাহবুব ও শাহিদা শিলা। ঐ রিটের ওপর আদালতের আদেশ মোতাবেক রাজউক, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে ইউনাইটেড হাসপাতালের গাফিলতির বিষয়টি উঠে আসে। ঐ প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঐ বছরের ২৯ জুন এক আদেশে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে বলে। কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় হাইকোর্ট পরিবার প্রতি ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেয়। কিন্তু আপিল বিভাগ ঐ আদেশ স্থগিত করে দেয়। একই সঙ্গে নতুন করে রিট আবেদন হাইকোর্ট উপস্থাপন করতে বলা হয়। এদিকে নিহত পাঁচ রোগীর পরিবারের মধ্যে একজনের পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় উপনীত হয়।
