মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৭তম প্রয়াণ দিবস আজ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৮

ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৭তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি মধ্যরাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামী বাঙালি বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন ও তার সহযোগী তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল।

এ উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার তার জন্মস্থান রাউজান উপজেলার সূর্যসেন চত্বরে মাস্টারদার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনাসভার আয়োজন করেছে রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠন। এছাড়া উপজেলার নোয়াপাড়ায় তার বসতভিটায় রাউজান প্রেসক্লাব, সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজানসহ নানা সমাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৩৩ সালে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করা হয়েছিল বিপ্লবীদের। এই ট্রাইব্যুনালের সভাপতি ছিলেন ডব্লিউ ম্যাকশ। রায়বাহাদুর রাজকুমার ঘোষ ও খন্দকার আলী তৈয়ব ট্রাইব্যুনালের সদস্য ছিলেন। রায়ের আদেশে সূর্যসেন ও তারকেশ্বরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং কল্পনা দত্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারকে ব্রিটিশ সেনারা নির্মমভাবে অত্যাচার করে। ব্রিটিশরা হাতুড়ি দিয়ে তার দাঁত ও হাড় ভেঙে দেয়। এরপর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের লাশ আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি এবং হিন্দু সংস্কার অনুযায়ী পোড়ানো হয়নি। ফাঁসির পর লাশ দুটো জেলখানা থেকে ট্রাকে করে ৪ নম্বর স্টিমার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর মৃতদেহ দুটোকে ব্রিটিশ ক্রুজার ‘দ্য রিনাউন’-এ তুলে নিয়ে বুকে লোহার টুকরা বেঁধে বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরসংলগ্ন একটা জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়।