বোবা প্রাণীদেরও রয়েছে অধিকার

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৩৮

রাস্তা ধরে হেঁটে চলেছে একটি কুকুর, পেটে মারাত্মক ক্ষুধা-যন্ত্রণা ভর করেছে। ময়লার ভাগাড় ঘুরেও মেলেনি একটুখানি খাবার। হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে ছলছল চোখে মানুষের খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখে খাবারের আশায় বসে পড়ে কুকুরটি। আচমকা চা বানানোর কারিগর নিঃসংকোচে এক বোল ধোঁয়া ওঠা গরম পানি ছুড়ে দেয় কুকুরটির শরীরে। কু কু আওয়াজ তুলে মারাত্মক যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে দৌড়াতে থাকে বোবা প্রাণীটি। এইভাবে দগ্ধ হয়ে যাওয়া চামড়ার অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে দিন যাপনের পর সব কষ্টের অবসান হয় কুকুরটির, তবে এই অবসান সম্ভব হয় মৃত্যুর মাধ্যমে। এরকম দৃশ্য বা খবর হরহামেশাই আমাদের নজর কাড়ে। অনেকে প্রাণীগুলোকে ধারালো বস্তু দিয়ে রক্তাক্ত করে, ভেঙে দেয় পায়ের হাড়গোড়, অনেকে তো লেজে কাপড়, পলিথিন বেঁধে আগুন ধরিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।

এরকম অমানবিক অত্যাচারের শিকার হয় আমাদের চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোও। প্রায়ই তাদের ঠিকভাবে খাবার না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় বিভিন্ন অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে। অথচ এইসব অসহায় নির্যাতনের শিকার প্রাণীগুলোই দিনের পর দিন আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখছে, পাহারা দিচ্ছে আমাদের জান-মালের। আর তাই এরা প্রভুভক্ত প্রাণী হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত। যদিও এইসব প্রাণীকে সাহায্যের উদ্দেশ্য কিছু সংগঠন হাত বাড়িয়েছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই স্বল্প। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সমাজের সবাইকেই এই অসহায় প্রাণীদের অধিকার আদায়ে সচেতন হতে হবে, সদয় আচরণ করতে হবে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সামাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল মানুষের উচিত প্রাণীদের প্রতি করণীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।

মাহির চৌধুরী

৪র্থ সেমিস্টার, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা