এক দেশে ভ্যাকসিনের দাম বেশি হলে অন্য দেশে যাব :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪১

কোনো দেশ যদি বেশি দামে ভ্যাকসিন বিক্রি করে সেক্ষেত্রে অন্য দেশ থেকে করোনার ভ্যাকসিন আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, অনেক দেশ ভ্যাকসিন তৈরি করবে। আমরা আন্তর্জাতিক বাজার দরেই ভ্যাকসিন সংগ্রহ করব।

গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার দরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি দামে বাংলাদেশ ভ্যাকসিন কিনছে, এর ফলে বাজেটে কী প্রভাব পড়বে- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভারত ভ্যাকসিন তৈরি করলে স্বাভাবিকভাবে এর উত্পাদন খরচ কম হবে। তারা যখন বিক্রি করবে তখন তাদের উত্পাদন খরচ, লাভ দুইটাকে একত্র করে হিসাব করবে। তাদের যে খরচ হবে সেই দামে আমরা ভ্যাকসিন পাব, এমন প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। তবে আমরা দেখব যে আন্তর্জাতিক বাজারে কত দামে ভ্যাকসিন বিক্রি হচ্ছে এবং আমরা কত দামে পাচ্ছি, সেটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করব। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা হলো, সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা। এমনকি যারা খরচ বহন করতে পারবেন না তাদেরকেও তিনি ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসতে চান।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বের হবার পর্যালোচনা বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এলডিসি থেকে উত্তোরণের জন্য যে শর্ত পূরণ করা দরকার সেগুলো আমরা ২০১৮ সালেই পূরণ করেছি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)-এর ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় দ্বিতীয়বারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণ বা গ্রাজুয়েশনের মানদণ্ড পূরণ ও উত্তরণের সুপারিশ লাভ করতে চলেছে বাংলাদেশ। অর্থাত্ ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি ঐতিহাসিক সময় যখন স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। এই অর্জনটি জাতির পিতা ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ হারানোদের জন্য উত্সর্গ করতে চাই।

ক্রয় কমিটিতে পাঁচ প্রস্তাব অনুমোদন

গতকাল অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে একটি প্রস্তাব এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে অবহিত করেন।

তিনি জানান, অর্থনেতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় গ্রিসের এথেন্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্কুল স্থাপনের অর্থ ব্যয়ে পিপিএ ২০০৬ এর ৬৮(১) এবং  পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) হতে অব্যাহতি এবং গ্রিসের স্থানীয় আইন অনুসরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৩৮ কোটি ৬১ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভগের আওতায় ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে জিটুজি ভিত্তিতে জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন সময়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ১০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব, পল্লি উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া কর্তৃক ‘পল্লি জনপদ নির্মাণ’ প্রকল্পের তিনটি সাইটের (রংপুর, বগুড়া এবং গোপালগঞ্জের) পূর্ত কাজ বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লি. গাজীপুর’ এর ১৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার দরপ্রস্তাব ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীন ‘ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেইজ (এনএইচডি)’ প্রকল্পে (৩য় সংশোধিত) পরামর্শক সেবা যৌথভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্রয়ের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৩  কোটি ৩ লাখ টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ‘বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২০তলা বিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের একটি লটের পূর্ত কাজের ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।