যশোরে ‘পুলিশ সদস্যকে মারপিটের অভিযোগে’ পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপুকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিপু অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে পুলিশ লাইনসে আটকে রেখে রাতভর বেধড়ক পিটিয়েছে। হ্যান্ডকাফ পরিয়ে চোখ বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। তার সারা শরীরে কালশিটে পড়ে গেছে। দুই পা ফেটে গেছে। মঙ্গলবার বিকালে তাকে মুক্তির পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বুধবার বিকালে উন্নত চিকিত্সার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
মাহমুদ হাসান বিপু বলেছেন, ‘পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী এই নির্যাতন করেছেন। অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদার গ্রুপ করিস্; শুট করে দেব!’ এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। অবশ্য পুলিশ সুপার দাবি করেছেন পুলিশ হেফাজতে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার রাতের সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাহমুদ হাসান বিপু বলেন, ঘটনার সময় আমি আবু নাসের স্মৃতি সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন শহর আওয়ামী লীগের এক প্রবীণ নেতা এসে জানান, শহিদ মিনারের সামনে মারামারি হচ্ছে, পারলে ঠেকাও। আমি এগিয়ে গিয়ে দেখি একটি ছেলেকে কয়েকজন মিলে মারধর করছে। আমি গিয়ে ছেলেটাকে সেফ করি। এ সময় আমি একটি মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে বলি ছেলেটাকে একটু কাঠালতলা অফিসে পৌঁছে দেন। ঐ অফিসটা জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদারের অফিস। আমি মনে করেছি ওখানে পাঠালে কেউ ছেলেটাকে মারতে পারবে না এবং আমি ওসি সাহেবকে খবর দিয়ে ছেলেটাকে তাদের হাতে দিয়ে দেব। এরপর ওসি ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি এসে কে পুলিশের ওপর হাত দিয়েছে জানতে চান। তখন আমি জানলাম আক্রান্ত ছেলেটি পুলিশ। এরপর হঠাত্ আমার ঘাড়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে পুলিশ। এরপর আমাকে থানায় ও পরে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাব্বানী গালিগালাজ করেন এবং অস্ত্র বের করে গুলি করবে বলে হুমকি দেন। এরপর সাত-আটজন মিলে ২০-২৫ মিনিট ধরে আমাকে নির্মমভাবে মারপিট করেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানিয়েছেন, মাহমুদ হাসান বিপুর সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। তার প্রেসার, ডায়াবেটিস রয়েছে। রক্তে প্লাটিলেট ১ লাখের নিচে নেমে এসেছে। মেডিক্যাল টিম তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছে।
শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিপুকে নির্মম নির্যাতন করে পুলিশ ক্ষান্ত হয়নি। ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে শহরের অনেক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেন তিনি।
তবে পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন দাবি করেছেন, পুলিশ সদস্য মারপিট ও আটকে রাখার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে সোমবার রাতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সত্য নয়। আমার জানামতে কোনো আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়নি। এমনকি পুলিশ হেফাজতে বিপুকে কোনোপ্রকার মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। এদিকে পুলিশ সদস্যকে মারপিটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিপুর সঙ্গে আটক শাহিনুজ্জামান তপু ও ইমামুল হককে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
