উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে বেড়েছে ইয়াবা পাচার

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৪২

উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় কিছুদিন ইয়াবা পাচার কিছুটা কমে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আবার বেড়ে গেছে। আর এজন্য মাদককারবারিরা নিত্যনতুন রুট পরিবর্তন করছে। সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড়ি সড়ক ব্যবহার করে নিরাপদে পাচার করছে কোটি টাকার ইয়াবা। বিশেষ করে রোহিঙ্গারা ইয়াবা পাচারে সম্পৃক্ত হওয়াতে পাচারকারীরা বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান ও পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে পাচারকারী সিন্ডিকেট তাদের মজুত করা ইয়াবার চালান পাচার করছে বলে জানা গেছে।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী সড়ক টেকনাফ হয়ে উখিয়ার বালুখালী ও বাইশফাঁড়ি সড়ক ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। একইভাবে উখিয়া ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন শৈলরডেবা সড়ক হয়ে রত্নাপালং ভালুকিয়া, হলদিয়াপালং পাতাবাড়ী সড়ক দিয়ে প্রবেশ করে ইয়াবার চালান যাচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। সীমান্তের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা থাকা সত্ত্বেও টেকনাফের সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ, দমদমিয়া, লেদা, রঙ্গিখালী, উলুচামারী, মৌলভীবাজার, নোয়াখালীয়াপাড়া, শাপলাপুর, সাতঘরিয়াপাড়া, উখিয়ার আমতলী, ডেইলপাড়া, ডিগলিয়া, টাইপালং, দরগাহবিল, থাইংখালী, পালংখালী, বালুখালী, রহমতের বিল, মরিচ্যা পাতাবাড়ী, রেজুখাল, নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, গর্জনবুনিয়া, তুমব্রুসহ উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের অন্তত ৩৫টি পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসছে বাংলাদেশে। শুধু স্থলপথ নয়, আসছে সাগরপথেও। কখনো ত্রাণবাহী কিংবা জরুরি পণ্যবাহী যানে, মাছ ধরার ট্রলার, কাভার্ড ভ্যান, কখনো পায়ুপথে, কখনো যানবাহনের ইঞ্জিনের কাভারে করে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবা।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান সাংবাদিকদের জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিজিবি সদস্যরা হ্নীলার দমদমিয়া ও টেকনাফে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছেন। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানিরা পালিয়ে যাওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া ইয়াবার চালানগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা সীমান্তের বিভিন্ন অলিগলি, ছোট সড়কগুলোকে নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। এ কারণে এসব সড়ক চিহ্নিত করে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও পাচারের পেছনে কারা জড়িত তা তৃণমূল পর্যায়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পাচারকারী সিন্ডিকেট পুলিশের অবস্থান লক্ষ্য করে বারবার পাচারের রুট পরিবর্তনের কারণে ইয়াবা পাচারকারীদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সৌমেন মণ্ডল জানান, সীমান্তে যে কোনো মূল্যে ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের চোরাচালান বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার। ইয়াবা পাচারকারীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইয়াবার চালান বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে আমাদের। আমরা বসে নেই, প্রতিনিয়ত চলছে আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান ও ধরপাকড়। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৬০ জন গডফাদারসহ ১ হাজার ১৫১ জন মাদককারবারির তালিকা প্রকাশ করে সরকার। এই তালিকায় টেকনাফ সীমান্তেরই রয়েছে ৯ শতাধিক ইয়াবাকারবারি।