মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে টাকা ছাড়া জলাতংকের প্রতিষেধক মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের। অভিযোগে প্রকাশ, ঐ প্রতিষেধক ও ডাক্তারদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্রের অধিকাংশ ওষুধই বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া ভর্তিকৃত রোগীর বেশির ভাগ ওষুধও বাইরের ফার্মেসি থেকে আনতে হয় বলে রোগীদের স্বজনরা জানান। ঐ হাসপাতালে জলাতংক রোগের প্রতিষেধক বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা ছাড়া দেওয়া হয় না। কুকুরে কামড়ানো ব্যক্তির চারবার এ প্রতিষেধক নিতে হয়। প্রতিবারই ১৩৫ টাকা করে মোট ৫৪০ টাকা রোগীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে।
গত বুধবার সরেজমিন ঐ হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় সদর উপজেলার জাগির ইউনিয়নের উকিয়ারা গ্রামের গ্যানেন্দ্র মণ্ডলের সাথে। তিনি জানান, ‘আমার ছেলেকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। এজন্য হাসপাতালে এসেছি প্রতিষেধক নিতে। ৪ দিন এই টিকা দিতে হবে। আজকে (বুধবার) টিকা দিতে ১৩৫ টাকা নেওয়া হয়েছে। আরও ৩ দিন এ টিকা দিতে হবে। তিনি আরও জানান, সবাই টাকা দিয়েই টিকা নিচ্ছে। আমিও বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে ছেলেকে টিকা দিচ্ছি।
নবগ্রাম ইউনিয়নের বারইল গ্রামের স্বপন জানান, ‘আমার মায়ের হঠাত্ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় এই হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ভর্তির পরামর্শ দেন। ভর্তির দুই দিন হয়ে গেলেও আমার মাকে হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ আনতে হচ্ছে।
২৫০ শয্যা হাসপাতালের স্টোর কিপার জানান, ‘আমি গত তারিখে জলাতংকের ১ হাজার টিকা এনেছিলাম। এখন আমাকে টিকা শেষ হওয়ার বিষয়টি বলা হয়েছে। আগামী সোমবার টিকা আনার জন্য যাবো।’ নার্সিং সুপারভাইজার আনিছুর রহমান জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর মোট ১ হাজার টিকা আসে এবং গত ৯ নভেম্বর শেষ হয়েছে। আমি সেদিনই স্টোর কিপারকে বিষয়টি অবগত করেছি। তিনি বলেন, টিকা আনার দায়িত্ব স্টোর কিপারের।’
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আরএমও মোঃ লুত্ফর রহমান জানান, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য নয়। হাসপাতাল থেকে জরুরি ওষুধগুলো সরবরাহ করা হয়। গ্যাস্ট্রিক, জ্বরের এন্টিবায়োটিক, হার্টের ওষুধসহ প্রায় সকল রোগের ওষুধ বিনামূল্যে রোগীদের সরবরাহ করা হয়। জলাতংক রোগের প্রতিষেধক শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এটি বিনামূল্যে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তাই আমরা রোগীদের ৪ জনের গ্রুপ করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৩৫ টাকা করে নিয়ে ফার্মেসি থেকে টিকা ক্রয় করে রোগীদের দিচ্ছি।’
