ডুবে যাওয়া ট্রলার এখনো শনাক্ত হয়নি, মালিক গ্রেফতার

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:৪১

মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ছয় দিনের মাথায় দুটি লাশ পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। গতকাল রবিবার সকালে গজারিয়া লঞ্চ ঘাটের কাছে একটি এবং দুপুরে মেঘনা নদীর চাঁদপুরের ষাটনলের কাছে অপর লাশটি পাওয়া যায়। যদিও লাশ দুটি নিহত শ্রমিকদের কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ দু’টি ফুলে ফেঁপে যাওয়ায় এগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে, ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক জাকির দেওয়ানকে গতকাল দুপুরে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গজারিয়া লঞ্চ ঘাটের কাছে উদ্ধার হওয়া লাশটির মুখ বাঁধা ছিল এবং শরীরেও কাটাছেঁড়ার চিহ্ন রয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে নৌ পুলিশের এসপি হুমায়ূন কবির জানান, স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা পৌঁছানোর পর লাশ দু’টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। তবে একটি লাশ ট্রলারের শ্রমিকের এটি প্রায় নিশ্চিত বলে পুলিশ মনে করছে।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-গজারিয়া) খন্দকার আশফাকুজ্জামান জানিয়েছেন, ট্রলারের মালিককে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে তাকে মুন্সীগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরফাতুল রাকিবের আদালতের (আমলি আদালত-৫) মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পুলিশ তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত আজ সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছে। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক শাহ আলম গজারিয়া থানায় এ মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার হাজী শুকুর হাওলাদার কান্দি এলাকার ট্রলারের সারেং মো. হাবিব (৫৫)। তিনি এখনও পলাতক। মামলার অপর আসামি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চালক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, চাঁদপুরের যাটনলের কাছে মেঘনায় নৌবাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রলারটির সন্ধান চালায়। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ ঘটনাস্থলে জানিয়েছেন, গজারিয়া লঞ্চ ঘাটের কাছে যে লাশটি উদ্ধার হয়েছে সেটি ডুবে যাওয়া ট্রলার শ্রমিকের বলে মনে হয় না।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হক জানান, রবিবার চাঁদপুরের মেঘনা নদীর যাটনলের কাছে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ট্রলারটির কোনো সন্ধান পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজদের স্বজন ও বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। তাদের স্থানীয়ভাবে ৫০ হাজার টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এছাড়া সরকারি অনুদান হিসাবে প্রত্যেককে পাবনা জেলা অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।