ফাইজারের টিকা নেওয়ার পর নরওয়েতে ২৩ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২০:৫২

 ‘ইইউর ছয়টি দেশে প্রত্যাশার চেয়ে কম ভ্যাকসিন পৌঁছেছে’

নরওয়েতে ফাইজারের উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়ার পর অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশে ফাইজারের ভ্যাকসিন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইজারের টিকা গ্রহণের পর মৃতদের মধ্যে ১৩ জনই হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের শরীরে টিকা নেওয়ার পরপরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। এ ঘটনার পর অতিবৃদ্ধ ও দীর্ঘ মেয়াদে অসুস্থ মানুষের জন্য ফাইজারের ভ্যাকসিনকে ‘মারাত্মক ঝুঁকি’ হিসেবে অভিহিত করেছে নরওয়ে। ফলে করোনা টিকার সুরক্ষা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার নরওয়েজিয়ান মেডিসিন এজেন্সির চিফ ফিজিশিয়ান সাইগার্ড হোর্তেমো বলেছেন, টিকা নেওয়ার পর জ্বর ও বমি বমি ভাবের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ‘কিছু কিছু দুর্বল রোগীর ক্ষেত্রে তা ভয়াবহ পরিণতি’ নিয়ে আসতে পারে।

করোনার মহামারি অবসানে তড়িঘড়ি করে টিকার অনুমোদন নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা হচ্ছিল। এমন সময় ইউরোপের দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টিকার সুরক্ষা নিয়ে এমন সতর্কবার্তা আসল। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় যারা মারা গেছেন তাদের বয়স ৮০-র ওপর। এই টিকা কারা নিতে পারবেন, কারা নয়, সে সম্পর্কিত নির্দেশনা সংশোধন করছে দেশটির সরকার। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার এবং জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ‘কমিরনাটির’ প্রথম ডোজ গ্রহণ করেন নরওয়ের ৩০ হাজারেরও বেশি অধিবাসী। ঝুঁকি বিবেচনায় প্রথম ধাপে দেশটিতে বয়োজ্যেষ্ঠদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হয়েছিল। খবর বিবিসি ও ব্লুমবার্গের।

এদিকে ইইউর ছয়টি দেশে ফাইজারের ভ্যাকসিন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম পৌঁছেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে ভ্যাকসিন শিপমেন্ট করায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইইউ। ইউরোপের ছয়টি দেশ এ পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে। সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, লিথুনিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ফাইজার-বায়োএনটেককে চাপ দিতে ইইউকে আহ্বান জানিয়েছে। তবে ফাইজার বলছে, উত্পাদন বাড়াতে উত্পাদন-প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় ভ্যাকসিনের চালান কিছুটা কমেছে। জানুয়ারি মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু পর্যন্ত সাময়িকভাবে এই প্রভাব থাকবে। তবে ফেব্রুয়ারির শেষে ও মার্চে রোগীদের জন্য চালান বাড়বে ও ভ্যাকসিন সহজলভ্য হবে।