দেশে করোনা ভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় ৫৭৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা দৈনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত সাড়ে আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের ২ মে ৫৫২ জন রোগী শনাক্তের খবর দেওয়া হয়েছিল। এরপর শনিবারই সবচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হলো।
গতকাল শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মোট ৭ হাজার ৮৮৩ জনের মৃত্যু হল। আরো ৫৭৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৩ জন হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ৬৩৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৫৬ জন হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১২ হাজার ২১৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫৭৮ জনের দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭টি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নমুনা পরীক্ষা ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়লেও শনাক্তের সংখ্যা ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত এক সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। সেই সঙ্গে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে সুস্থতার হারও। সার্বিকভাবে শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২১ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন, নারী ৮ জন। এই ২১ জনের মধ্যে ২১ জনই হাসপাতালে মারা গেছেন। করোনা ভাইরাসে পুরুষের সংক্রমণ হার বেশি। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৫ হাজার ৯৭৬ জন পুরুষ। নারী মারা গেছে ১ হাজার ৯০৭ জন। গত এক দিনে মৃত ২১ জনের মধ্যে ১২ জনের বয়স ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে। এছাড়া চার জনের বয়স ৫১-৬০ বছরের মধ্যে। তিন জনের বয়স ছিল ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। আর এক জনের বয়স ৩১-৪০ বছরের মধ্যে। এই পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে জানানো হয়, ষাটোর্ধ্ব রোগীদের মৃত্যুর হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ ও শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ।
