বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কে টু পর্বত জয় করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়লো নেপালের ১০ পর্বতারোহীর একটি দল। দলটির সদস্য পর্বতারোহী নির্মল পূজা জানান,স্থানীয় সময় বিকেল ৫ টায় কে টু পর্বতের শীর্ষে পৌঁছান তারা।
একরকম অসম্ভব ব্যাপার ছিল কঠিনতম শৃঙ্গে এ শীতকালীন অভিযান। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করতে নেমেছিলেন নেপালের একদল দামাল যুবক। সবাই মিলে এগিয়ে গিয়েছিলেন পর্বতারোহণের ইতিহাসে সেরা চমকটি দেওয়ার জন্য।
এই পর্বতারোহণ আয়োজক সংস্থা সেভেন সামিট ট্রেকস সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে , সফল হয়েছে তাদের পর্বতারোহণ। অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটায় ( স্থানীয় সময়) কে টুর শিখরে একসঙ্গে পৌঁছেছেন তিনটি দলের ১০ নেপালি শেরপা। এরা হলেন নির্মল পূজা , গ্যালযে শেরপা, মিংমা তানজি শেরপা, পেম ছিরি শেরপা,দওয়া টেম্বা শেরপা, কিলু পেম্পা শেরপা ও দাওয়া তেনজিং শেরপা।
THE IMPOSSIBLE IS MADE POSSIBLE ! #K2winter - History made for mankind, History made for Nepal !????????????????????????#K2winter #K2winter2021https://t.co/dGCLFBOxB7
— Nirmal Purja MBE (@nimsdai) January 16, 2021
কেটু হচ্ছে মাউন্ট এভারেস্টের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮,৮১১ মিটার। হিমালয় পর্বতমালার কারাকোরাম পর্বত রেঞ্জের অন্তর্গত এই পর্বতশৃঙ্গটি পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান ও চীনের জিংজিয়ানের তাক্সকোরগান সীমান্তে অবস্থিত।
এই পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এটি জংলী পর্বত নামেও পরিচিত। অন্নপূর্ণা পর্বতশৃঙ্গের পর আট-হাজারী পর্বতশৃঙ্গগুলোতে আরোহণ প্রচেষ্টায় মৃত্যুর হারের দিক থেকে কেটু এর অবস্থান দ্বিতীয়। এর চূড়ায় আরোহণকারী প্রতি চার জনের মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেছে।

এই পর্বতশৃঙ্গে আরোহণের প্রথম প্রচেষ্টা করেন একটি অ্যাংলো-সুইস অভিযাত্রী দল ১৯০২ সালে এবং তারা শৃঙ্গের উত্তর-পূর্ব ধার বরাবর ১৮,৬০০ ফিট (৫,৬৭০ মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত আরোহণে সমর্থ হন।অন্যান্য অসফল প্রচেষ্টাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১৯০৯ সালে লুইগি আমেদিও, ডিউক অফ্ আবুরাজ্জির নেতৃত্বে শৃঙ্গের দক্ষিণ-পূর্ব ধার বরাবর (যেটি পরে আবুরাজ্জি রিজ্ নামে পরিচিত হয়) একটি ইতালিয় অভিযান এবং তারা প্রায় ২০,০০০ ফিট (৬,১০০ মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত আরোহণে সমর্থ হন।
এরপর ১৯৩৮ সালে একটি আমেরিকান অভিযাত্রী দল চার্লস হাউস্টনের নেতৃত্বে আবুরাজ্জি রিজ্ ধরে প্রায় ২৬,০০০ ফিট (৭,৯২৫ মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত আরোহণে সমর্থ হন। শেষপর্যন্ত, ১৯৫৪ সালে একটি ইতালিয় অভিযাত্রী দল ভূতাত্ত্বিক আরদিতো দেসিওর নেতৃত্বে আবুরাজ্জি রিজ্ কে টু জয় করেন। আকিলে কম্পাগননি এবং লিনো লাসেদেলি ১৯৫৪ সালের ৩১ শে জুলাই স্থানীয় সময় অনুসারে বিকেল ৬ টার সময় সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছান।
ইত্তেফাক/এএইচপি
