স্থানীয় সরকার নির্বাচন :আদর্শ ও বাস্তবতা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫৪

 ‘আদর্শ মডেল’ নিয়ে অনেক তর্ক হতে পারে, কিন্তু আমাদের সংবিধান থেকে আমরা যাত্রা শুরু করতে পারি। এজন্য নয় যে এটাই আদর্শ বা এটাই বাস্তবতা (Reality), বরং এটা এখানে আনছি এটা দেখানোর জন্য যে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বলতে গিয়ে চার মূল নীতি নিয়ে (যেটা বর্তমান সরকার আবার সংবিধানে ফিরিয়ে এনেছেন) আমরা সকলেই মুখে যতখানি আবেগ দেখাই, বাস্তবে আমরা তা তৃণমূলে প্রতিষ্ঠার জন্য মোটেও ততটুকু সচেতন ও সক্রিয় নই। এটা প্রাথমিকভাবে শুরু হতে পারে স্থানীয় পর্যয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন তথা স্থানীয় সরকার বা Communitarian Rule প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। কেন্দ্রীভূত আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীভবনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধীরে ধীরে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে গ্রাম পর্যন্ত নেওয়া যেতে পারে। যেটার প্রাথমিক চেষ্টা করা মাত্রই বঙ্গবন্ধুকে শাহাদাত্ বরণ করতে হয়েছিল (মনে করে দেখুন, বাকশালের নির্বাচিত জেলা গভর্নর পদ্ধতির প্রস্তাবটির কথা)। একসময় জিয়াউর রহমান গ্রাম সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এমনকি এরশাদ সাহেবও উপজেলা পদ্ধতির কথা বলেছিলেন। তবে সেসব প্রস্তাব রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের অধীনে আনার উদ্দেশ্য নিয়ে সব সময় করা হয়নি। উদ্দেশ্য ছিল আমলাতন্ত্রের ক্ষমতাকে ‘টপ ডাউন’ কায়দায় তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া।

আওয়ামী লীগ ও বামপন্থিরাই ছিলেন এদেশে ক্যান্টনমেন্ট থেকে নয় বরং নিচের তলা থেকে ‘চোংয়া ফুঁকে’ রাজনীতি করে উঠে আসা দল। সেই অতীত থেকে বর্তমান আওয়ামী লীগ ও বামেরা উভয়ই অবশ্য যোজন যোজন দূরে সরে এসেছেন। বঙ্গবন্ধু-বন্দনায় এবং তাকে খ্যাতির ফ্রেমে আটকানো অবস্থায় রেখে তার স্থানীয় গণতন্ত্র ও বিকেন্দ্রীকরণের মৌলিক স্বপ্নগুলিকে নস্যাত্ করা হয়েছে নিখুঁতভাবে, তাতে দেশের কোনো কল্যাণ হয়নি। আজ বরং আমলাতন্ত্র আরো শক্ত হয়েছে—প্রশাসনের বিকেন্দ্রীভবনকে আজ অনেক সচেতন ও সংগঠিতভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এবং সংবিধানে আজও শোভা পাচ্ছে ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ (৭(১) ধারা দ্রঃ) । কিন্তু বাস্তবে সকল ক্ষমতার মালিক অসত্ আমলা, অসত্ ব্যবসায়ী ও অসত্ রাজনীতিবিদদের ত্রিভুজ। জিজ্ঞাসা করলে শাসকেরা অসহায় ভাব করে বলেন, ‘সত্ লোক কোথায় পাব?’ কিন্তু আসলেই কি এদেশের জনগণ সকলে বিক্রয়যোগ্য হয়ে গেছেন?

আজ ক্ষমতাসীন সরকার ও সরকারি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এমনকি রাজনৈতিক বিজয়ের জন্য তাদেরকেই ব্যবহার করতে হয়, অথবা ধনী ব্যবসায়ীদের টাকার ওপরই দলের নেতাকর্মীরা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাই স্থানীয় সরকারের ভোটের ব্যবস্থা করলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। গ্রামে জনগণের স্বনির্ভর আত্মশক্তি বা ক্ষমতা বৃদ্ধি না করে শুধু ভোটের মাধ্যমে ‘আদর্শ স্থানীয় সরকার’ আজ আর তৈরি করা যাবে না। সেজন্য অনেকদূর যেতে হবে, জনগণের জন্য অনেক রকম নীতিসহায়তা ও দুষ্টের দমন নীতি আগে বাস্তবায়ন করতে হবে। টাকার প্রভাব দূর করার জন্য কোনো এক সময় নির্বাচনি ব্যয়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯০ সালে শাহাবুদ্দিন সরকারের আমলে, প্রায় ৩৮ বছর আগে নাজমা চৌধুরীর অধীনে রাজনৈতিক টাস্কফোর্সের থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনই স্থানীয়ভাবে সর্বদলীয় সভা করে প্রার্থীদের এক মঞ্চে জনগণের সামনে ‘প্রজেকশন’ মিটিংয়ের আয়োজন করবেন। সেখানে প্রত্যেক প্রার্থী নিজ নিজ ইশতেহার তুলে ধরে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে ভোট চাইবেন। কোনো হানাহানি, পেশিশক্তির প্রদর্শনী চলবে না। ভোট কেনা-বেচা চলবে না। ধর্ম নিয়ে অপপ্রচার চলবে না। কিন্তু হায়! এসব থেকে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি আজ অনেক অনেক দূরে সরে গেছে। কবে যে সেখানে আমরা পৌঁছাব তা খোদাই জানে।

এনজিওদের দাবি

২০১০ সালে ২২ শে জুলাই বন্ধুবর জনাব মোহসীন আলির গভর্ণেন্স এডভোকেসী ফোরাম আয়েজিত এক জাতীয় সেমিনারে আমি স্থানীয় সরকার সম্পর্কে কতগুলি আদায়যোগ্য বাস্তব সুপারিশ তুলে ধরেছিলাম। সেখানে দলমতনির্বিশেষে নির্বাচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা এবং উপজেলা চেয়ারম্যানরা ছিলেন। তারাও এসব প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিলেন। সেগুলি আজ আবার তুলে ধরছি, জানি না, কেউ এটাকে ‘বেনো বনে মুক্তা ছড়ানো’ হিসাবে অভিহিত করবেন কি না?

দাবিসমূহ :১. গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ তথা প্রকৃত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বসম্পন্ন শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধির ভিত্তিতে বরাদ্দ মোট বাজেটের ১.৪৩ শতাংশ থেকে ক্রমাগত প্রতিবছর ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা। ২। তৃণমূলে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বৃদ্ধির জন্য সংবিধানে প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী তাদের ভূমিকা সুনির্দিষ্ট করা এবং এই লক্ষ্যে সংসদ সদস্য বা প্রশাসনের কর্তৃত্বমুক্ত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ৩। সরকারের যেমন কেন্দ্রীয় পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে, তেমনি স্থানীয় সরকারেরও অনুরূপ উন্নয়ন পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনাটি ‘নিচ থেকে ওপরে’ পদ্ধতিতে প্রতিবছর মে মাসের আগেই সম্পন্ন করে সরকারের কাছে প্রেরণ করা, যাতে সরকার তার কেন্দ্রীয় বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় তা সমন্বয় করতে পারে। এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর পূর্বঘোষিত জেলা বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে কার্যকর করা।

৪। স্থানীয় সরকারকে তাদের আয়-ব্যয় নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়ের উত্সগুলি চিহ্নিত করে প্রস্তাব নির্ধারণের সুযোগ সৃষ্টি করা। জাতীয় বাজেট নির্ধারণের সময় এই প্রস্তাবগুলি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে মূল প্রস্তাব প্রণয়ন করা। ৫। স্থানীয় জনগণের কাছে স্থানীয় সরকারগুলির কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৬। এ বছর থেকেই ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের’ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দারিদ্র্য নিরসন কর্মসূচির ব্যয় পরিকল্পনাগুলি ইন্টারনেট ও অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা, যাতে গ্রামে/ ইউনিয়নে/উপজেলায় কী কী সরকারি প্রকল্প এ বছর বাস্তবায়িত হবে, তাতে কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, কারা কারা এই অর্থ ব্যয়ের দায়িত্বে রয়েছেন এবং এখানে কোনো ব্যত্যয় হলে কোথায় অভিযোগ করা যেতে পারে—এ তথ্যগুলো সকলে জানতে পারেন।

সেসময় সংসদ সদস্যদের তত্ত্বাবধানে ব্যয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের যে পৃথক বরাদ্দ দেওয়া হতো, তা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানরা ঘোর আপত্তি জানিয়েছিলেন। নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে যে, জাতীয় আইন প্রণয়নই হওয়া উচিত এমপিদের মুখ্য কাজ। তবে ম্যাক্রো প্রকল্পগুলির যেমন পদ্মা সেতুর মতো জাতীয় পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তাদের সমন্বয়কারী হিসেবে একটি ভূমিকা পালনের প্রয়োজন থাকতে পারে। আমাদের উল্লিখিত তিন, চার ও পাঁচ নম্বর প্রত্যাশাগুলি তদানীন্তন বাজেটে সেবার সমর্থিত হলেও সেই লক্ষ্যে কোনো কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণে তদানীন্তন অর্থমন্ত্রীও সক্ষম হননি। এ প্রসঙ্গে ঐ বাজেটে অর্থমন্ত্রীর সরল স্বীকারোক্তিটি ছিল নিম্নরূপ। তিনি লিখেছিলেন :

‘এ বিষয়ে সরকার মনে করে যে, উন্নয়ন এবং সেবা সরবরাহের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। যেসব কর্মকাণ্ড বৃহত্ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যেমন—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, গ্রামীণ পূর্তকর্ম ইত্যাদি, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাপক বিকেন্দ্রায়নের প্রয়োজন এবং দায়িত্ব ও ক্ষমতার প্রতিসংক্রম অপরিহার্য। সরকার এও মনে করে যে, জেলা পরিষদকে ঢেলে সাজিয়ে একে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য আমরা দুঃখিত। তবে এ মহান সংসদকে আমি অবহিত করতে পারি যে, এ বিষয়টি বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সবিশেষ নজরে আছে।’ (বাজেট বক্তৃতা, পৃষ্ঠা : ৭২)

প্রশ্ন হচ্ছে ‘এই নজরে’ রাখা আর বাস্তবায়িত হওয়ার মধ্যে ব্যবধান আজ আট বছর পরেও কেন অব্যাহত শুধু নয়, বেড়েই চলেছে! বরং এখন অর্থ, পেশিশক্তি ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের ফলে তৃণমূলে ঠিকমতো ভোট দেওয়াই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২০০৭ সনে প্রকাশিত তদানীন্তন অর্থমন্ত্রীর (জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত।) একটি গ্রন্থের (An Agenda for Good Governance: From Lawlessness and Corruption to a Caring and Prosperous Democracy, Shahittaya Prokash, February, 2007) ১০৮ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছিলেন,

‘‘এখানে আমি এমন একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাব করছি যার মাধ্যমে জেলা সরকার হবে সকল উন্নয়নমূলক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক সরকারি ক্রিয়াকাণ্ডের মূল কেন্দ্র। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকার আকারে ছোট হয়ে আসবে; অধিকতর দক্ষ হয়ে উঠবে এবং তার আওতাধীন বিষয়গুলি সীমাবদ্ধ থাকবে শুধু সেই সব বিষয়ে যেগুলির রয়েছে জাতীয় গুরুত্ব, যেগুলি জাতীয় নীতি, জাতীয় লক্ষ্য এবং জাতীয় সাধারণ মানের (Standard) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়। এটা হবে ৬৭টি জেলায় ৬৭ জন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, যাদের পদের পদবি হবে মন্ত্রীর সমতুল্য, তাদের কাছে কার্যকর সরকারি ক্ষমতার হস্তান্তরের শামিল। রাজধানীতে থাকবে শুধু একটি ছোট কেবিনেট যার সদস্য সংখ্যা ২৫-এর বেশি হবে না। আমি বলতে চাই, এই ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন এক ঢিলে সাতটি জাতীয় মন্দকে (Evil) আঘাত করবে : ১. গভীর রাজনৈতিক বিভাজন, ২.       সুবিশাল ও কেন্দ্রীভূত শ্বেতহস্তীর আমলাতন্ত্র, ৩.   কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতা, ৪.  একটি কেন্দ্রীভূত রাজস্ব আহরণ পদ্ধতির ক্ষীণ বিস্তৃতি, ৫. সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত জবাবদিহিতা ও তত্ত্বাবধানের অভাব, ৬.   জনগণ থেকে দূরে অবস্থিত একটি দুর্নীতিপরায়ণ সরকার, ৭.                সরকারি কার্যক্রমে এবং সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের পরিপূর্ণ অংশগ্রহণহীনতা। (পৃ. ১০৯)

এরপরে উক্ত গ্রন্থে জনাব মুহিত জেলার নির্বাচিত সরকার কীভাবে গঠিত হবে তার বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রদান করেছেন। তিনি বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী নামে কেন্দ্রে যে মন্ত্রী ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা বিলুপ্ত করে ‘স্থানীয় সরকার কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেছিলেন, যার কাজ হবে স্থানীয় সরকারগুলির তত্ত্বাবধান বা দেখভাল করা। এ ছাড়া ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রধান কাজ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন যে, তারা মূলত তলা থেকে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন এবং তার বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তৃণমূলে ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রসঙ্গে প্রদত্ত আরো একটি তাত্পর্যময় বক্তব্য আমি নিচে উদ্ধৃত করছি :

‘প্রতিবছর প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে জনগণের দুইটি সাধারণ সভার আয়োজনের সুযোগ রাখা হবে। এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেখানে উপস্থিত থাকবেন। সভার আলোচ্যসূচি হবে বিস্তৃত ও উন্মুক্ত (Wide and Open) এবং মূলত বাজেট ও পরিকল্পনাকেন্দ্রিক। অন্য আরো অনেক সভা তৃণমূলে হতে পারে কিন্তু এই দুটি সভা হবে বাধ্যতামূলক।’ (পৃ. ১২৯)

অর্থমন্ত্রীর স্বপ্ন কি অবাস্তব বা অসম্ভব স্বপ্ন?

এ ধরনের স্বপ্ন কি আসলেই ধরাছোঁয়ার অতীত কোনো স্বপ্ন? আমার তা মনে হয় না। পশ্চিমবঙ্গে এমনকি গ্রাম পর্যায়ে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিও সাধারণ সভায় এ ধরনের পরিকল্পিত বাজেট প্রণয়ন করে উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যকরী করছে। আমার ধারণা, গত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘প্রহসনের’ পর সব যেন থমকে দাঁড়িয়ে আছে—নতুন অর্থমন্ত্রী ও সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যেসব স্বপ্নের কথা শুনিয়েছিলেন, আজ পর্যন্ত এসব ব্যাপারে সক্রিয় হননি। তাই আজও বামপন্থিরা, আমরা অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের দাবির পেছনে পেছনে ছুটছি। ৭২ এর সংবিধানের স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা, সরকারের দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতি ও এই জরুরি দাবিগুলি কবে আদায় হবে, কবে আমাদের দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, কে তা জানে?

n লেখক : অর্থনীতিবিদ, চেয়ারম্যান,

অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়