নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেলার হাতিয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। সেখানে একই কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে আরেক নারীকে। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় নির্যাতন করে সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই আদালতে মামলা করেছেন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ চার জেলায় দুই গৃহবধূ ও দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে এক নারীকে (৩২) ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সন্তানদের সামনেই বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১ জানুয়ারি রাতে হাতিয়ার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চানন্দীর জনতা বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ঐ নারীর বিবস্ত্র অবস্থার ভিডিও ধারণ করে বলে জানা গেছে, যা গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্তে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তবে ভিডিওটি যে ঐ নারীর, সে ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী ঐ নারী জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বিচারক বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে হাতিয়া সার্কেলের এএসপিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—চানন্দী ইউনিয়নের আবুল হোসেন মেকারের ছেলে জিয়া উদ্দিন (৩০), খবির উদ্দিনের ছেলে ফারুক উদ্দিন (২৮), মো. হাজারীর ছেলে গোলাম ফারুক (৩০), জমিদার মাঝির ছেলে এনায়েত হোসেন (৩০) ও একই এলাকার ভুট্টো মাঝি (৩৫)। আসামিদের ভয়ে নির্যাতিতার স্বামী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে এএসপি (হাতিয়া সার্কেল) মো. গোলাম ফারুক জানান, শনিবার তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং দু-এক দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের জানান, তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ ও আন্দোলন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে।
ইত্তেফাক রিপোর্টার জানান, রাজধানীর খিলগাঁওয়ে এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঐ নারী (২৫) তার স্বামী আইয়ুব আলীসহ ছয় জনকে আসামি করে গতকাল রবিবার খিলগাঁও থানায় মামলা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুকুল আলম। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি জানান, গত ১২ জানুয়ারি ঐ নারীকে তার স্বামীসহ আরো পাঁচ জন উত্তর গোড়ানের একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর ঐ নারীর স্বজনেরা তাকে ঢাকা মেডিক্যালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যান। গতকাল সকালে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে থানায় এসে মামলা করেন।
যশোর অফিস জানায়, জেলার ঝিকরগাছা থেকে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে ঝিকরগাছা থানায় ঐ স্কুলছাত্রীর মা এই মামলা করেন। অভিযুক্ত অভি ইসলাম প্রান্ত যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে। ঘটনার শিকার মেয়েটি ঝিকরগাছার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেটি ১৬ জানুয়ারি রাতে মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রবিবার ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের দীঘলিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ঈসমাইল মিয়া (২১) বিয়ের প্রলোভনে প্রতিবেশী নবম শ্রেণির ঐ ছাত্রীকে (১৫) নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। গতকাল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঐ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, ছাত্রীটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় তিন সন্তানের জননীকে (৪৫) গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের শ্রীনগর গ্রামে। এ ঘটনায় গতকাল ঐ নারী নিজেই বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় তিন জনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেছেন। আসামিরা হলেন—পার্শ্ববর্তী ময়দা গ্রামের সজীব সিকদার (২৮), রাজ্জাক ওরফে রাজা (৪০) ও জলিল হাওলাদার (৩০)। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম জানান, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে পটুয়াখালী জেলহাজতে এবং ঐ নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠিয়েছে।
