বহুল আলোচিত রাজধানীর কাকরাইলে শামসুন্নাহার করিম (৪৬) ও তার ছেলে শাওনকে (১৯) বাসায় ঢুকে খুনের ঘটনায় স্বামী-সতিনসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ রায় প্রদান করেন। এ সময় আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শামসুন্নাহারের স্বামী আবদুুল করিম, তার তৃতীয় স্ত্রী শারমিন আক্তার মুক্তা ও শ্যালক (মুক্তার ভাই) আল-আমিন ওরফে জনি। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন হাওলাদার জানিয়েছেন, মামলার বাদী আশরাফ আলী এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে গেল ১০ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনকালে মামলার তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি মর্মে খালাস চান আসামি পক্ষের আইনজীবী। ঐদিন উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করে আদালত।
২০১৭ সালের ১ নভেম্বর কাকরাইলের রাজমনি প্রেক্ষাগৃহের পশ্চিম দিকে রাজমনি কার সেন্টার ও বায়রা ডাটাবেইজের মাঝের পাইওনিয়র গলির ৭৯/১ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় শামসুন্নাহার করিম ও তার ছেলে শাওনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। বাড়িটি আবদুুল করিমের। তাদের বড় দুই ছেলে বিদেশে থাকেন। এ ঘটনার পরদিন ২ নভেম্বর রাতে নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় নিহতের স্বামী আবদুল করিম, করিমের তৃতীয় স্ত্রী শারমীন মুক্তা, মুক্তার ভাই জনিসহ অজ্ঞাত কয়েক জনকে আসামি করা হয়। আবদুল করিম পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী। ঐ তিন আসামিই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
