আমাদের দেশে যে কয়েকটি প্রাকৃতিক বনভূমি রয়েছে তার মধ্যে মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়ের কথা বলতে হয়। ভাওয়ালের গড় বাংলাদেশের জাতীয় উদ্যান, গাজীপুর জেলার পূর্বে বানার ও পশ্চিমে বংশী নদীর মধ্যবর্তী উচ্চ ভূমিতে অবস্থিত। যার আয়তন মাত্র ২৫৯ বর্গকিলোমিটার। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রাপথে মির্জাপুর মাস্টারবাড়ি থেকে হোতাপাড়া পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে এই বনভূমি চোখে পড়ে। এই বনভূমির প্রধান বৃক্ষ হচ্ছে শাল, যা স্থানীয়ভাবে গজারী নামে পরিচিত। এজন্য এই বনকে গজারীবনও বলা হয়।
শীতকালে শাল বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মে নতুন পাতা গজায়। ভাওয়ালের গড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন। জাতীয় উদ্যানের ভেতরে এবং আশেপাশে গড়ে উঠেছে ব্যক্তি মালিকানাধীন অত্যাধুনিক বিভিন্ন আবাসিক রিসোর্ট, কটেজ এবং হোটেল ও রেস্টুরেস্ট। গড়ে তোলা হয়েছে সিএনজি পাম্প, আবাসিক স্থাপনা, মার্কেট, বিশাল বাণিজ্যিক ভবন ছাড়াও অপরিকল্পিত বিভিন্ন শিল্পকারখানা। এ কারণে বিনষ্ট হচ্ছে জাতীয় উদ্যানের স্বাভাবিক পরিবেশ। ব্যাহত হচ্ছে প্রাকৃতিক বনায়ন। একটি বিষয় খুবই লক্ষণীয়—বনের ভেতরের কিছু জায়গায় এবং রাস্তার পাশ ধরে গাছগুলি মরে যাচ্ছে। হয়তো কিছুদিন পরই দেখা যাবে ঐ জায়গায় স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানেও অনেক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বনভূমির জায়গা দখল করে নির্মাণাধীন রয়েছে। এদিকে আবাসিক গ্যাস বন্ধ করে দেওয়ায় ভাওয়ালের এই বন থেকে প্রতিদিন প্রচুর গাছ কেটে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহূত হচ্ছে। জাতীয় উদ্যান ভাওয়ালগড়ে স্থাপনা কিভাবে গড়ে উঠছে এবং বন বিভাগ থাকার পরেও বনের গাছ কিভাবে চুরি হয়ে বন উজাড় হচ্ছে তা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।
কামরুজ্জামান
