আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের প্রচারণায় মহানগরী এখন চঞ্চল হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের ১২ দফা আচরণবিধি কড়াকড়িভাবে পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তাদের তত্পরতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে নানা অনিয়ম প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ করছেন। প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার। গতকাল সোমবার নগরীর উত্তর ও দক্ষিণ পাঠানটুলী, পূর্ব মাদারবাড়ী ও পশ্চিম বাকলিয়ায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে নৌকায় ভোট দিতে জোটবদ্ধ। নৌকার পালে বিজয়ের হাওয়া লেগেছে দেখে কারো মাথায় গণ্ডগোল দেখা দিতে পারে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে একদিকে দল-মতনির্বিশেষে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের জন্য আওয়ামী লীগকে, আমাকে, নৌকা প্রতীককে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছেন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, ১৮ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শহীদুল ইসলাম, ২৮ নম্বর দক্ষিণ পাঠানটুলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর, ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ, ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জাহেদা বেগম পপি, শাহীন আক্তার রোজী, জিন্নাত আরা বেগম।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিবার্চনে বিএনপির মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য রাজনীতি করছি। মানুষের সুখ-দুঃখ বুঝি। করোনাকালে মানুষের পাশে থেকেছি, এখনো সাহায্য-সহায়তা করে যাচ্ছি। ফ্রি ট্রিটমেন্ট দিচ্ছি। তাই চট্টগ্রামের মানুষ আমাকে পছন্দ করে। মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেব। কারণ চট্টগ্রাম পর্যটননির্ভর একটি বিভাগ। এখানে সি-বিচ আছে, ফয়’স লেক, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি আছে। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজে পর্যটননগর গড়ে তোলা যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর, চাকসুর সাবেক ভিপি নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন, কাজী বেলাল উদ্দীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য হারুন জামান, আশরাফ চৌধুরী, মো. কামরুল ইসলাম, উত্তর জেলা বিএনপির নেতা এম এ হালিম, জসিম উদ্দীন সিকদার, মো. সেকান্দর চৌধুরী, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সভাপতি মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, শোলকবহর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজী শামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাসান চৌধুরী ওসমান, মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জিন্নাতুন নেছা জিনু প্রমুখ।
