শীতের দাপট বাড়তে না বাড়তেই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার থেকে বাড়তে পারে তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে বাড়বে ঘন কুয়াশার বিস্তার। আসছে বছরের প্রথম বৃষ্টিবলয়। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও আবার কমতে থাকবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে গতকাল সকালে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল কয়েক ঘণ্টা। ঘন কুয়াশার কারণে মধ্যরাত থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে থাকে। দিনের বেলা সূর্য দেখা যায়নি। হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করেছে দূরপাল্লার যানবাহন। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনাও বাড়ছে বলে জানা গেছে। এদিকে গুগল ওয়েদারে আজ থেকে ২২ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক এলাকায় বেশি সক্রিয় থাকবে বৃষ্টিপাতের মেঘ। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের পূর্ব অংশ, রংপুর বিভাগ, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিছুটা বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, এখন তাপমাত্রা বাড়বে। বহু এলাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। এজন্য শীতের অনুভূতি থাকবে। জানুয়ারি মাসের পুরোটাই শীতকাল। তাই এ মাসে শৈত্যপ্রবাহ থাকুক আর নাই থাকুক, শীত থাকবে। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি বাড়বে। কোথাও কোথাও তিন ডিগ্রিও বাড়বে। যেসব এলাকায় মৃদ শৈত্যপ্রবাহ চলছে, সেসব এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ থাকবে না। তবে, বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু জায়গায় গুঁড়িগুঁড়ি থেকে হালকা বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাতের পরে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পাবে।
গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শ্রীমঙ্গল, পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সারা দেশে আজ দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এছাড়া আগামী চার দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। ‘হিমালয়কন্যা’ খ্যাত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় গতকাল সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়ার পর সূর্যের দেখা মিলেছে সেখানে। তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ বলেন, এখনো মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। কমতে পারে শেষ রাতের তাপমাত্রা। কনকনে ঠান্ডার মধ্যে ঝলমলে রোদে শীত কিছুটা কমায় উত্তরবঙ্গে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে দেশের শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে। তবে উত্তরের হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকায় খুব একটা স্বস্তি নেই তাদের। রাজধানী ঢাকায় গতকাল সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
