বাড়িতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি হলো রান্নাঘর। কারণ এ ঘরে যে রান্না করা হয় তার পরিচ্ছন্নতা ও ভেজালহীনতার ওপর নির্ভর করে পরিবারের সবার স্বাস্থ্য। তাই রান্নাঘরে কাজ করার সময় কিছু বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে, তাহলে রান্নাঘরে থাকবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সুন্দর আর গোছানো রান্নাঘরের পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন
হাসিবুর রহমান
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সব সময় কর্মব্যস্ত থাকে রান্নাঘর। এত ঝামেলার মধ্যেও আপনাকে থাকতে হবে রিফ্রেশ। এ জন্য দরকার রান্নাঘরের প্ল্যানিং। রান্নাঘরের জিনিসপত্র একটু কমিয়ে ফেলুন। এখানে অনেক কিছুই থাকে যা আপনার এখন প্রয়োজন নেই। খুব দরকারি তৈজসপত্র হাতের কাছেই রাখুন। আলাদা মেন্যুর উপকরণগুলো একসঙ্গে গুছিয়ে রাখুন। ব্যবহূত বা অব্যবহূত জিনিসপত্র কোনটা কোথায় রাখবেন আগে থেকে ঠিক করুন।
জায়গার সঠিক ব্যবহার
রান্নার সময় সহজেই হাতের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়ার জন্য ছোটখাটো কিছু অদলবদল করে নিন নিজের সুবিধামতো। অ্যারেঞ্জমেন্ট খুবই জরুরি রান্নাঘরের রকমারি জিনিসপত্র মেইনটেন করার জন্য।
ক্যাবিনেট
ক্যাবিনেটগুলো একেকটা বাসনের মাপ অনুযায়ী একেক রকম সাইজে বানিয়ে নিন। যেমন—বোল বা প্যানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটের চেয়ে আরেকটু লম্বা হবে ট্রে রাখার ক্যাবিনেট। প্রতিটি ক্যাবিনেটের দরজার ভিতরের দিকে নানা মাপের খুন্তা, হাতা, বড় চামচ ইত্যাদি ঝুলিয়ে রাখার আংটা রাখুন। জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু কিছু কিচেন ফার্নিচার বাতিল করে ফাঁকা ওয়ালস্পেসে কিছু হ্যাঙ্গিং ক্যাবিনেট ও শেলফ বানিয়ে নিন। এতে করে দেখতেও সুন্দর লাগবে আবার চলাফেরার জন্য স্পেস বাড়বে।
বাসনপত্র
প্রতিটি ছোটখাটো বাসনও নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটে রাখার ব্যবস্থা করুন। প্রতিদিন ব্যবহারের যেসব বাসন, যেমন—লাঞ্চ বা ডিনারের সেট, গ্লাস ও কাপ, চায়ের কাপ-পিরিচ, ছুরি, চামচ; এগুলো খাবার ঘরের সাইড বোর্ডে রাখার ব্যবস্থা করুন। তাহলে রান্নাঘরে অন্য জিনিস স্টোরেজের জায়গা বের হবে। বাসনপত্র ধোয়ার পর, ভালো করে মুছে তারপর তুলে রাখুন। বাসন মোছার জন্য সবসময় পেপার টাওয়েল ব্যবহার করুন।
সিঙ্ক ও গ্যাসের চুলা-যদি সম্ভব হয় গ্যাস স্টোভের সামনের দেয়ালে জানালার মতো চারকোণা খোপ কেটে নিতে পারেন। আবার এই খোপের তলার অংশটি তাকের মতো ব্যবহার করে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখতে পারেন। তাহলে রান্নার সময় এ ক্যাবিনেট থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বের করে হাতের কাছে নিতে পারবেন। সিঙ্কের নিচের ফাঁকা জায়গায় শেলফ বানিয়ে নিন। সেখানে বাসন ধোয়ার সাবান, স্ক্র্যাবার, বাসন মোছার ন্যাপকিনস গুছিয়ে রাখুন। রান্নাঘরে অবশ্যই একটি ঢাকনা দেওয়া নোংরা ফেলার বালতি রাখবেন।
মেঝে কখনোই অপরিষ্কার রাখবেন না। হাতের কাছে মোছার জন্য কাপড় বা ডাস্টার রাখুন। গ্যাসের পাইপের ওপরে গরম খাবার ফেলবেন না। টুকটাক সব দাগ পরিষ্কার করার জন্য লবণ, সোডা ও ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, গ্যাস ওভেনের চারপাশে ছলকে পড়ে শক্ত হয়ে যায়। এটা পরিষ্কার করতে এক চামচ লবণ আর গরম পানি দিয়ে ভালো করে ঘষে নিলে দাগ ও তেলতেলে ভাব দুটিই চলে যাবে। ওভেনের ভেতর পরিষ্কার করার জন্য বেকিং সোডা ছড়িয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। ফ্রিজের ভেতরের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ কমানোর জন্যও বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। চিনামাটির কাপ, প্লেট থেকে কড়া দাগ পরিষ্কার করার জন্য ভিনেগারে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর স্ক্র্যাবার প্যাডে সামান্য লবণ দিয়ে ঘষুন। দেখবেন দাগ উঠে যাবে। এভাবে আপনার সঙ্গে রান্নাঘরেও আনতে পারেন ভিন্নতা।
