>> নাহইয়ান তারান্নুম
ছোটবেলায় আর দশ জনের মতোই আপন গণ্ডিতে সুখি এক শিশু ছিলেন মো. আবদুল্লাহ। তার শিক্ষাজীবন শুরু মাদ্রাসায়। এরপর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকা কটন মিলস আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে। কিছুটা লাজুক হলেও সময়ের তালে তালে নিজেকে ভেঙ্গেছেন এবং গড়েছেন আবদুল্লাহ। একটি সংগঠনের কলেজ প্রতিনিধি থেকে যিনি আজ হয়ে ওঠেছেন সেই সংগঠনের কাণ্ডারি। পড়ালেখার পাশাপাশি সাফল্য দেখিয়েছেন সহশিক্ষাতেও।
শিক্ষাজীবনের প্রথম দুই ধাপ অর্থাত্, স্কুল-কলেজে প্রথম সারির ছাত্র হিসেবে নাম করলেও পারিপার্শ্বিক কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন আবদুল্লাহ। তাই নিজেকে কখনোই মেলে ধরা হয়ে ওঠেনি তার। হঠাত্ করেই একদিন স্বল্প পরিচিত একটা সংগঠনের কলেজ প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ আসে। খুব বেশি কিছু না ভেবেই তাতে নিজের নাম লিখিয়ে এলেন আবদুল্লাহ। দেখতে দেখতে এক সময় নিজেকে প্রমাণ করতেও সক্ষম হন তিনি। কিছুদিন পর কলেজ প্রতিনিধি হওয়ার সংবাদটা পেলেন।
সংগঠনটির সঙ্গে কাজ করতে করতেই আবদুল্লাহ স্বপ্ন দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। স্বপ্ন পূরণের জন্য নিতে থাকেন প্রস্তুতি। কিন্তু বিধি বাম! ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় তার। এ পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন আবদুল্লাহ আশাহত হলেও পরিবার আর সংগঠনের সকলের সহযোগিতায় আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পান। জিতে নেন নিজের স্বপ্নকে। তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা থেকে আবদুল্লাহ চালিয়ে যান সেই সংগঠনের কার্যক্রম।
সময়ের সমান্তরালে চলতে চলতে এর মাঝেই স্বল্প পরিচিত সংগঠনটি হয়ে ওঠে সুপরিচিত ‘সিলসা’। সিলসার সঙ্গে পথচলাই আবদুল্লাহর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একসময় সাধারণ কলেজ প্রতিনিধি থেকে সিলসার এক্সিকিউটিভ হয়ে ওঠেন তিনি। সেরাটা দিয়ে শক্ত করেন নিজের অবস্থান। কাজ শুরু করেন সিলসার জনপ্রিয় গ্রুপ ড্রিম টু ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আবদুল্লাহকে। নিজের নেতৃত্বগুণেই সিলসার হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট টিমের হেডের আসনে বসেন একসময়। কঠোর পরিশ্রম আর দক্ষতার ফল হিসেবে গত বছর অর্জন করেন সিলসার সভাপতির আসন।
স্কুলের ক্যাপ্টেন্সি দিয়ে নেতৃত্বের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল—তা একসময় পরিণতি লাভ করে দলপ্রধান হিসেবে। তার নেতৃত্বে সিলসা আজ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে।
