রসের গাছ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫৬

গাছটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য লালন করে আসছে। শীতকালে গাছটির গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। রসে ভরা খেজুরগাছের কথা বলছি। শীতকালে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর অন্যতম উপকরণ হচ্ছে খেজুরের রস। গ্রামবাংলায় খেজুরগাছের অবস্থান এবং খেজুরের রস উত্পাদিত হলেও তা শহরাঞ্চলে বিক্রি হতে দেখা যায়। তাই শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, শহরের মানুষের কাছেও খেজুরের রস অত্যন্ত প্রিয়। একটি পূর্ণবয়স্ক খেজুরগাছ দিনে দু থেকে চার লিটার পরিমাণ রস দিতে পারে। সপ্তাহে ২-৩ দিন বিরতি দিয়ে এভাবে প্রায় দু’মাস রস পাওয়া যায়। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা সম্ভব। খেজুরের রস থেকে তৈরি হয় গুড়। কুটিরশিল্পের উপকরণ হিসেবেও খেজুরগাছের গুরুত্ব কম নয়। তাছাড়া খেজুরগাছ বেড়া হিসেবেও কাজে লাগে এবং মাটিক্ষয় রোধ করে। খেজুরগাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হয়। শুধু তাই নয়, আয়ুর্বেদী ওষুধ তৈরিতেও খেজুর, খেজুরের রস, খেজুরের মাথি এবং গাছের শিকড় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই খেজুরগাছ রয়েছে। সাধারণত চার বছর বয়সের পর থেকে খেজুরগাছের রস আহরণ শুরু হয়। খেজুরগাছ এক বিশেষ পদ্ধতিতে চেঁছে তা থেকে রস নামানো হয়। রস আহরণের জন্য দা ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেজুরগাছে উঠে নিপুণ হাতে গাছ প্রস্তুত করেন গাছি। তিনটি স্তর পেরিয়ে তারপর রস আহরণ শুরু হয়। শীত আসার আগেই খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য শুরু হয় প্রাথমিক প্রস্তুতি। গাছের যত্নে গাছিরা তখন মহাব্যস্ত সময় কাটান; অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুরগাছগুলির কদর বাড়ে। খেজুরগাছের জন্য আলাদা কোনো চাষের জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির চারপাশে, জমির আইল, পুকুরের পাড়, বেড়িবাঁধ, রাস্তা ইত্যাদি স্থানে খুব সহজেই খেজুরগাছ লাগানো যায়। আমাদের দেশে অপরিকল্পিত ও বিক্ষিপ্তভাবে খেজুরগাছের অস্তিত্ব থাকলেও যশোর, ফরিদপুর ও খুলনা জেলার কিছু অঞ্চলে খেজুরগাছ বেশি দেখা যায়। তবে সর্বত্রই বিশেষ করে জ্বালানি ও বাসস্থানের প্রয়োজনে খেজুরগাছ অনেক কমে গেছে এবং ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই খেজুরগাছ রোপণ করা একান্ত প্রয়োজন।

প্রদীপ সাহা

সাভার, ঢাকা