স্পোর্টস ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার দুর্গ হিসেবে পরিচিত ব্রিসবেনের গ্যাবায় অজিরা কোনো টেস্ট হারে না সেই ১৯৮৮ সাল থেকে। চতুর্থ ইনিংসে ২৩৬-এর ওপর তাড়া করে জিতার ইতিহাস নেই এই মাঠে। এ সব অশনী সংকেতকে নাকচ করে দিয়ে মঙ্গলবার সুভমন গিল ও রিশাব পান্তের বিরত্বে তিন উইকেট হাতে রেখেই ৩২৮ রান তাড়া করে ঐতিহাসিক এক জয়ের চিত্রনাট্য লিখেছে অজিঙ্কা রাহানের ভারত। কল্পনাতীত এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজও ঘরে তুলে নিয়েছে ভারত।
পঞ্চম দিনে ভারতের নাটকীয় রান তাড়ার মূল ভীত গড়ে গিয়েছিলেন অবশ্য চেতনেশ্বর পুজারা। শেষ দিনে ১০ উইকেট হাতিয়ে নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে নামা অজি পেস ব্যাটারির সামনে প্রথম সেশন থেকেই বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন এই ৩২ বছর বয়সি। ২১১ বলের ইনিংসটি খেলার পথে ১০ বারের মতো শারীরিক আঘাতেরও শিকার হয়েছেন তিনি। তৃতীয় সেশনে প্যাট কামিন্সের বলে যখন আউট হয়ে ফিরে গেছেন পুজারা, তখন ভারত যে এই টেস্ট হারবে না তা অনেকখানিই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। পুজারার গড়ে দেওয়া শক্ত ভীতে ভড় করেই তখন মেরে খেলতে শুরু করেন রিশাব পান্ত। পান্তের ১৩৮ বলে করা অপরাজিত ৮৯ রানের অদম্য ইনিংসের বদৌলতে তিন ওভার হাতে রেখেই গ্যাবায় রেকর্ড ৩২৮ রান তাড়া করে ফেরে ভারত। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করে সিরিজও।
৩৬ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা নিয়ে যেই সিরিজ শুরু করেছিল ভারত, অদম্য মানসিকতার বলে সেই সিরিজ তারা শেষ করল অনন্য উচ্চতায়। প্রথম টেস্টের পর থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া সিরিজজয়ী অধিনায়ক রাহানের কণ্ঠে তারই প্রতিধ্বনি, ‘কীভাবে বর্ণনা করব বুঝতে পারছি না, এই জয় আসলে আমাদের জন্য অনেক কিছুর অর্থ বহন করে। অ্যাডেলেড টেস্টের পর ছেলেরা অদম্য মানসিকতা ও সংকল্পের পরিচয় দিয়েছে। দলের প্রতিটা ব্যক্তিকে নিয়ে আমি গর্বিত।’ লজ্জাজনক এই পরাজয় অস্ট্রেলিয়াকে ভোগাতে পারে আরো। এই সিরিজ পরাজয়ের ফলে এ বছরের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছানো এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে টিম পেইনদের জন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৩৬৯ (লাবুশেন ১০৮, নটারাজন ৩-৭৮)
ভারত ১ম ইনিংস: ৩৩৬ (ঠাকুর ৬৭, হ্যাজেলউড ৫-৫৭)
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ২৯৪ (স্মিথ ৫৫, সিরাজ ৫-৭৩)
ভারত ২য় ইনিংস: ৩২৯/৭ (গিল ৯১, পান্ত ৮৯*, কামিন্স ৪-২৪)
ফল: ভারত ৩ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৪ ম্যাচ সিরিজে ভারত ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রিশাব পান্ত
ম্যান অব দা সিরিজ: প্যাট কামিন্স
