যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অনেক ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছে এবারের নির্বাচন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি। তিনি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচনের ফল উলটে দিতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছেন। তার সমর্থকরা জো বাইডেনের জয় আটকাতে মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা চালিয়েছে। যা মার্কিন ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ১৫২ বছর পর আরেক ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। তা হলো—১৮৬৯ সালের পর নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট হিসেবে উপস্থিত থাকছেন না তিনি। এর আগে মার্কিন ইতিহাসে তিনবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। কিন্তু ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন এ অনুষ্ঠানে থাকবেন না তিনি। রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে চতুর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি উত্তরসূরির অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকছেন না। এর আগে ১৮০১ সালে থমাস জেফারসনের অভিষেক অনুষ্ঠানে জন অ্যাডামস, ১৮২৯ সালে অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের শপথ অনুষ্ঠানে জন কুইন্সি অ্যাডামস এবং ১৮৬৯ সালে ইউলিসিস এস গ্রান্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে ছিলেন না অ্যান্ড্রু জনসন। এছাড়া আরো দুই জন প্রেসিডেন্ট তার উত্তরসূরির অভিষেক অনুষ্ঠানে ছিলেন না। কিন্তু তাদের অনুপস্থিতি বিদ্বেষপূর্ণ বলে মনে করেন না ইতিহাসবিদরা। প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভ্যান বুরেনের উপস্থিত না থাকার কারণ জানা যায়নি আর উইড্রো উইলসন তার উত্তরসূরির অভিষেক অনুষ্ঠানে ছিলেন না শারীরিক অসুস্থতার কারণে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউজে জেরাল্ড ফোর্ডের অভিষেক অনুষ্ঠানে ছিলেন না রিচার্ড নিক্সন। তিনি ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির মুখে দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি পদত্যাগ করেন। ফোর্ড তার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আজ বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানের আগে হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ফ্লোরিডার পাম বিচের মার-এ-লাগো রিসোর্টের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
