পরিমানে কম ও বিলম্বে রেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার বরিশালে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগরীর বান্দ রোডের সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আহত হয়েছেন অন্তত ৫জন।
সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও খাদ্য পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, ‘সোমবার রেশন নিতে আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের অপেক্ষা করতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক হুমায়ুন কবির, উপ-সহকারি খাদ্য কর্মকর্তা তপন, নিরাপত্তা প্রহরী রেজাউল করিম ও অপর রেজাউল করিমকে মারধর করে। এ সময় তারা সদর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শকের কার্যালয় ভাঙচুর এবং ফাইল-পত্র নিয়ে যায়।’
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিন জানান, ‘প্রতি মাসেই রেশনের চাল ও গম মিলিয়ে চার টনের স্থলে একশ কেজি কম পাওয়া যায়। পরিমাপে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আর রেশন দেবে না এবং দিলেও তাদের ভোগান্তিতে ফেলার কথা হুমকি দেয়। সোমবার ফায়ার সার্ভিসের তিনজন কর্মী সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে রেশন আনতে গেলে খাদ্য বিভাগের কর্মচারীরা টালবাহানা শুরু করে। তারা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে খাদ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা তাকে (মো. আলাউদ্দিন) চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অন্য সদস্যরা সদর খাদ্য অফিসে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদসহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।’
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কাউকে মারধর কিংবা ভাঙচুর করেনি বলে দাবি সদর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিনের।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. অজিয়র রহমান ফায়ার সার্ভিস ও খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহার উদ্যোগ নেন।
আরও পড়ুন: ৫ কোম্পানির পানি পানের উপযোগী নয়: বিএসটিআই
জেলা প্রশাসক জানান, ‘উভয় দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
ইত্তেফাক/অনি
