নতুন পরিচয়ে

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ২১:০৯

ই ম রু ল  নূ র

 

এদেশে খুব কম তারকাই আছেন যারা একইসঙ্গে অভিনয় ও গানে শীর্ষ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সেই বিরলতম একটি নাম তাহসান খান। এ দুই মাধ্যমেই তাহসান বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। গায়ক, অভিনেতার বাইরেও তিনি গীতিকার, সুরকার এবং প্রভাষক। অসাধারণ গায়কী আর নান্দনিক অভিনয়; দুই মাধ্যমেই তিনি তুমুল জনপ্রিয়। এত এত পরিচয়ের বাইরে এবার তিনি আসতে চলেছেন আরও এক নতুন পরিচয়ে। গায়ক ও অভিনেতা তাহসান এবার আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন লেখক হিসেবে। প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার প্রথম বই ‘অনুভূতির অভিধান’। আগামী অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এটি প্রকাশ করছে অধ্যায়ন প্রকাশনী। প্রথমবার বই লেখা এবং নিজের বই সম্পর্কে তাহসান বলেন, ‘মানুষের জীবনে বেড়ে উঠার সময়ে অনেক কিছুই শেখা হয়। আমার মনে হয় আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে একটা জিনিসই কম শিখছি। সেটা হচ্ছে অনুভূতি কীভাবে ধারণ করতে হয়; সেটাকে কীভাবে প্রক্ষেপণ করতে হয়, অনুভূতির চরাই উত্রাই কীভাবে পার করতে হয় সেটা। এটা আমরা শিখি না কারণ, স্কুল-কলেজে এটা শেখানো হয় না, পরিবারেও খুব একটা হয় না। যে কারণে টিনেজ বয়সে কিংবা তার পরবর্তী বয়সে বিভিন্ন সময়ে ফ্রাস্ট্রেশন বা ডিপ্রেশন চলে আসে।

বইটি লিখেছি আমার জীবনের ২০-২৫টি গল্প নিয়ে। আমার এই বইটা হচ্ছে একটা ‘কনভার্সেশন স্টার্টার’; যেন কথার শুরু হয়। আমি বলব না যে এভাবেই শুরু করতে হবে! তবে আমি আমার গল্পের মাধ্যমে বলতে চাই— এভাবে শুরুটা হতে পারে। মানুষ এটা পড়ে যেন বুঝে যে অনুভূতি নিয়ে আমাদের আরও অনেক বেশি কথা বলা উচিত। আমাদের জীবনে আমরা অনেক কিছু নিয়ে কথা বলি কিন্তু অনুভূতি নিয়ে কথা বলি না। এই অনুভূতিটার চর্চা হলে আমাদের পৃথিবীটা আরও সুন্দর হয়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

নিয়মিত বই লেখা হবে কি না এমন প্রশ্নে এই গায়ক বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে আমার যখন যেটা ভালো লাগে সেটাই করি। শ্রোতা বা দর্শকরা আমার কাছে যেটা চায়, আমি সেটা করি। এখন বইটা পড়ার পর যদি রেসপন্স ভালো পাই বা আমার অডিয়েন্স যদি চায় তবে সামনে আরও লিখব। এই সময়টাতে আমার লেখার ছিল, লিখেছি। বাকিটা আসলে ভবিষ্যতের ব্যাপার।’

সমপ্রতি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন তাহসান। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কেউ এই আন্তর্জাতিক সংস্থার হয়ে জনসংযোগের কাজ করবেন।

ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে গান ও অভিনয় প্রসঙ্গে এই নায়ক বলেন, ‘আমি খুব ভাবগম্ভীর গান করি। গত বছর দুটো গান করেছি; এরমধ্যে ‘অদৃশ্য পরজীবী’ যেটা করোনা ভাইরাস নিয়ে আর একটা করেছি প্রতিবাদী গান। যারা আসলে গানের বোদ্ধা—এটা তাদের জন্য। অনেক বছর তো হিট গান করলাম, এখন আসলে পুরনোদের জন্য কিছু গান করছি। অবশ্য আগের মতো এত বেশি গান আসবে না, তবে নতুন গান আসবে। আর অভিনয়ের কথা যদি বলি তাহলে বলব, বেশকিছু নাটক আসবে, সেইসঙ্গে বিজ্ঞাপনও। সমপ্রতি শেষ করলাম মাবরুর রশীদ বান্নাহর পরিচালনায় ‘হাফ হানিমুন’ নামে একটি বিশেষ নাটক যেটি ভালোবাসা দিবসেই আসবে। এখানে আমার সঙ্গে রয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। এই কাজটার মাধ্যমে তিশার সঙ্গে প্রায় দেড় বছর পর কাজ করেছি। খুবই সুন্দর একটা গল্পে কাজ করেছি, যেটা দর্শকরা দেখলেই বুঝতে পারবেন।’