কাঁধে জোয়াল-মাঠের প্রান্তে
গোটা দুই হতোদ্যম গরু
ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুর দেখছে প্রবল ঘৃণায়
সর্বোচ্চ দাপটে গ্রীষ্ম ঝাঁপিয়ে পড়েছে
দিশেহারা নবীন হিজল;
তার নিচে—বাঁশের চটার শীর্ণ বেঞ্চে
ঘেমো শরীর জুড়িয়ে নিচ্ছে ওরা তিনজন;
দু’জন খেতখামারি করে
বেলোয়ারি চুড়ি-লেস-ফিতা-আয়না-আলতা
বিবিধ সদাই নিয়ে ঘোরে অন্যজন
অনাবৃষ্টির আক্ষেপ, ফলনের আশাবাদ
এহেন জরুরি বৈষয়িক আলোচনা;
আগুনের ওঠানামা কল্কের মাথায়
হুঁকোর হাতবদল...
সামনে দাঁড়াতে সহসা ছন্দপতন
কুশল জিজ্ঞেস করে একজন
উঠে লাঙলের মুঠি ধরে
হেট হেট করতে লাগল—
অন্যজন ইশারায় বসতে বলেই
গামছায় সাফ করে খালি জায়গাটা
ফেরিওয়ালা কাঁধে তুলে বেসাতির বাঁক
স্মিত হেসে বলে—আচ্ছা যাই...
দু-এক কথার পর আমিও নির্বাক
তালপাতায় একত্রে বর্ণমালা লেখা
একদা তুবড়ি ছোটানো সতীর্থদের
মুখে আজ কথার অভাব—
