আজ একটা ভালো চরিত্রে ডাকুক এক দৌড়ে চলে আসবো

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৮

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। কেন তিনি দেশ থেকে দূরে? দেশীয় চলচ্চিত্রে কী তিনি আর কখনো ফিরবেন না? বর্তমান চলচ্চিত্রের এই অবস্থা প্রসঙ্গে কী ভাবছেন। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন

তানভীর তারেক

কেমন আছেন?

সব মিলিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। শরীরটা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে পড়ে আছে, কিন্তু মন ওই এফডিসিতেই।

কিন্তু এভাবে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে আপনার মতো ব্যস্ত অভিনেতা। ব্যাপারটা কী শিল্পের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না?

নিজের মনের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক। একটা ভুল ধারণা আমরা সবাই করে বসে থাকি যে, আমরা মনে হয় অনেক সুখে দেশের বাইরে থাকি। ব্যাপারটা মোটেই তা না! ইচ্ছে করে কেউই, কোনো শিল্পীই দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে পারে না। আমার পরিবার এখানে। আমিও এখানে বছরের পর বছর থাকতে পারি। কিন্তু যদি মনে করেন, আমি অনেক সুখে এই সময়টা বেছে নিয়েছি তাহলে ভুল ভাববেন। আমি আপনাকে মাত্র কয়েক মাস আগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

সেই কোন্দলের কথা বলবেন তো। কিন্তু সেখানেও দেশে থেকে সমাধানের পথ খুঁজতে পারতেন?

কী করিনি বলেন! লিখিত ক্ষমা চেয়েছি। সবার সঙ্গে কথা বলেছি। ছবিতে আমাকে সবদিক থেকে আটকে দেওয়া হয়েছে। ওয়েব সিরিজ করতে শুরু করলাম। পরে মনে হলো এতটা বছর ধরে বড়পর্দায় কাজ করেছি, এখন আবার এসব করবো? আল্লাহতায়ালা তো ডাল-ভাত খাওয়ার অবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্বাস করেন, একেকটি ছবির ঘোষণা হয়, নিজেকে আমার চরিত্রে ভাবতে থাকি। দুই যুগ তো কাটিয়ে দিলাম। এখন এমন একটা পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে গিয়েছিল যে, কেউ কেউ সাক্ষাত্ অপমান না করা অবধি যেন স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। আমার প্রশ্ন এই বিচ্ছিন্ন করে কার লাভ হলো? এতই ঈর্ষা মনে ধরে ওরা কী প্রতিদিন শুটিং করছে এখন? আমি তো ভালো একটা চরিত্রের কাঙাল। আজ একটা ভালো চরিত্রে ডাকুক, এক দৌড়ে চলে আসবো।

কিন্তু প্রতিদিনকার বাজেট কমানো, প্রযোজকদের সঙ্গে মতপার্থক্যের জায়গায় আপনাদেরও তো একঘেঁয়েমি ছিল...

না, ছিল না। আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বলিনি যে, বাজেট কমালে সবাই প্রযোজকদের বয়কট করবো। বয়কট শব্দ ও কার্যকারীতা তাদের কাছ থেকে এসেছে। আমরা তো সবচেয়ে নাজুক সংগঠন। সবাই থাকলেই শিল্পীরা থাকবে। সমস্যা কার সময়ে ছিল না বলেন? কিন্তু এভাবে এত সংকটের সময় আমার মতো মিশা সওদাগরকে ছবি থেকে অফ করে দিয়ে কী ইন্ডাস্ট্রির লাভ হলো। আমার তো ২ জন হলেও দর্শক আছে। সেটা কী ব্যাহত হলো না। আমি দম্ভ নিয়ে নয়, বাস্তবতা নিয়ে বলছি।

কিন্তু আপনার হিরো শাকিবের সঙ্গেও তো শেষ অবধি জুটি গড়ে টিকতে পারলেন না...

না, এটা ভুল ধারণা। শাকিব একা কত সামলাবে? ওকে নিয়েও তো দিনরাত পলিটিক্স চলছে, এখন ও নিজেরটা দেখবে, না মিশা-শাকিবেরটা দেখবে! হ্যাঁ, দোষ-ভুল সবারই আছে। আমি সমঝোতার জন্য সর্বোচ্চ করেছি। কই, তবুও তো অপমানের কথা শুনতেই হলো!

কিন্তু এই আপনিই তো বলেছেন আপনি শাকিব দু’জনই শতভাগ ইন্ডাস্ট্রি...

হ্যাঁ, সেসময়টা তেমনই ছিল। একসঙ্গে থাকলে সবই সম্ভব। এখনো সম্ভব। আজ আপনি একটি ছবিতে শাকিব খান, রিয়াজ, ওমর সানী, মিশা সওদাগর, অমিত হাসান একসঙ্গে কাস্ট করে একটা ভালো গল্প দাঁড় করান না, কোটি টাকার ব্যবসা হবে। বাজি লেগে বলতে পারি। এখন আমরা সবাই যে যার মতো করে মুখ ফিরে বসে আছি। আমার ‘সরি’ বলতে কোনো সমস্যা নেই, যদি সেই সরিকে কেউ সম্মান দিয়ে বুকে টেনে নেয়। সরি অর্থ দুর্বলতা না, সমঝোতায় বিশ্বাস রাখলেই মানুষ দুঃখিত হয়। আমি সমঝোতায় বিশ্বাসী, কোন্দলে নয়। আজকের ইন্ডাস্ট্রি সিনেমার মানুষদের হাতে নেই! কষ্টটা আমার এখানেই। সিনেমা শিল্প সিনেমার মানুষদের হাতে থাকতে হবে।