পৃথিবীতে যত ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্র আছে, তার মধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সব ধরনের ব্যবসায় কমবেশি ঝুঁকি আছে। কিন্তু পুঁজিবাজারের ঝুঁকির সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসার ঝুঁকির তুলনা হয় না। ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গত ১৪-১-২০২১ তারিখ থেকে ১৯-১-২০২১ তারিখ সকাল পর্যন্ত টানা চার কার্যদিবস পুঁজিবাজারে বিরতিহীন দরপতন হয়। দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী না বুঝে না শুনে না দেখে হজুগে বিনিয়োগ করেন। এটা তাঁদের পুঁজি হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ। বাজারের মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর ওপর সাধারণ বিনিয়োগকারীর আস্থা কম থাকায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডে সাধারণ বিনিয়োগকারীর বড় একটি অংশ বিনিয়োগ করতে চান না। সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে রিসার্চ অ্যানালাইসিস করে বিনিয়োগ করতে হয়। এর জন্য অভিজ্ঞতা দক্ষতা থাকা একান্ত অপরিহার্য। সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে রিসার্চ অ্যানালাইসিস করা একেবারেই অসম্ভব। এ সমস্যা উত্তরণে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটি গঠন করা উচিত। যেখানে আমাদের দেশের অনভিজ্ঞ সাধারণ বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ, সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সহযোগিতা নিয়ে বিনিয়োগ করলে ক্ষতি হবে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির মাধ্যমে কেনা শেয়ারে ৪০ শতাংশ ক্ষতি হয়। তবু সেই ক্ষতিপূরণ কাটিয়ে উঠতে পারবেন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটি।
আব্বাস উদ্দিন আহমদ
ধোপাদিঘির দক্ষিণ পাড়, সদর, সিলেট ৩১০০
