যুক্তরাস্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইরান এবং ফিলিস্তিন নীতি নিয়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ইসরাইলের। ক্ষমতা গ্রহণের একদিন পরই নতুন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন যে, তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি পুনর্বহাল এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন পৃথক রাষ্ট্র গঠনে উদ্যোগী হবে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাক্-বিতণ্ডা ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনার কথা বলছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হালে যতটুকু দূরত্ব তৈরি হয়েছে দেশ দুটির মধ্যে তা মিটিয়ে ফেলাই উচিত। কেননা তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহু পুরনো। প্রতিবেদক বলেন, নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার অভিষেকের দিনের বক্তৃতায় নিজেও স্বীকার করেছেন, তারা পুরনো বন্ধুত্বকে আরো ঝালাই করতে চান। বাইডেন বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের জোটগুলোকে ফের মেরামত করব। আবারও আমরা বিশ্ব সমস্যা মোকাবিলায় এক হয়ে কাজ করব।
গতকাল কি ঘটেছে তা নয়, বরং আজ এবং আগামীকালের চ্যালেঞ্জগুলোই মোকাবিলা করব।’ তবে ইসরাইলের কিছু বিষয় নিয়ে অস্বস্তি থাকলেও আবার স্বস্তির জায়গাও রয়েছে। ট্রাম্পের আমলে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি এবং শহরটিতে মার্কিন দূতাবাস রাখার সিদ্ধান্ত আপাতত পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরেই ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইসরাইলকে ঐ স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তিনিই তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইসরাইলি দৈনিক ওয়ালা সম্প্রতি লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আতঙ্ক বোধগম্য এবং এটি মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নতুন প্রশাসন এই আশঙ্কাকে কিছুটা প্রশমিত করার চেষ্টা করছে। তবে সেটা সফল হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ কয়েক জন কর্মকর্তাকে নিয়েও চিন্তায় পড়েছেন নেতানিয়াহু। যেমন- ইরানে বিশেষ দূত হতে চলা রবার্ট ম্যালে, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শারম্যান, সিআইএর সম্ভাব্য পরিচালক এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান প্রমুখ। এসব কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
সে সময় ঐ চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছিল ইসরাইল এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ। ২০১৮ সালে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটিকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে ইসরাইল। অন্যদিকে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার বিষয়ে সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট স্থানীয় পত্রিকা মারিভকে বলেছেন, দ্বিরাষ্ট্র সমাধান এবং জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানাচ্ছেন তিনি।
