স্পোর্টস রিপোর্টার
গত বছর দেশের মাটিতে ও বিদেশে টেস্ট দলের একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টি-২০ দলে নেই প্রায় তিন বছর। ওয়ানডেতেও বল হাতে অনুজ্জল। তাই চলমান সিরিজ শুরুর আগে নিজেই বলেছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটা নিজেকে আবারও মেলে ধরার, ছন্দে ফেরার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে কিছুটা স্বস্তির অনুসঙ্গ খুঁজে পেলেন মিরাজ। ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ২৩ বছর বয়সি এই অফস্পিনার। এর আগে ২৯ রানে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ২০১৮ সালে।
মিরাজের ছন্দে ফেরার দিনে বাংলাদেশও প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে। গতকাল উইন্ডিজ দলকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে সিরিজ জয় পায় টাইগাররা। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ তে সিরিজ জিতে গেল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। আজ বেলা ১২টার ফ্লাইটে চট্টগ্রামে যাবে দুই দল।
গতকাল টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মিরাজ-সাকিবের ঘূর্ণি তোপে ৪৩.৪ ওভারে ১৪৮ রানে অলআউট হয় ক্যারিবিয়ানরা। ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারালেও শেষ দিকে রোভম্যান পাওয়েলের ৪১ রানের ইনিংসে ১০০ পার হয় তাদের স্কোর। রোভম্যান পাওয়েলকে স্ট্যাম্পড করে উইন্ডিজদের ইনিংস শেষ করে দেন মিরাজ। ওটলে, জশুয়া দা সিলভা, রেইমন রেইফারকেও ফেরান তিনি। এনক্রুমা বনার ২০, ওটলে ২৪, আলজারি জোসেফ ১৭, আকিল হোসেন অপরাজিত ১২ রান করেন। সাকিব-মুস্তাফিজ ২টি করে, হাসান মাহমুদ ১টি উইকেট পান। তামিমের হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৩.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪৯ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ৪৮তম হাফ সেঞ্চুরি করা তামিম ৫০, সাকিব অপরাজিত ৪৩, লিটন ২২, শান্ত ১৭, মুশফিক অপরাজিত ৯ রান করেন।
পরপর দুই ম্যাচে খর্ব শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এমন জয়ের কারণ হিসেবে গতকাল ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেছেন, ‘আমাদের কম্বিনেশনটা ভালো হচ্ছে। যখন যার পারফরম্যান্স করা দরকার, সেই পারফরম্যান্স করছে। যার কারণে আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সহজে জয় পাচ্ছি।’
ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে বেশ নির্ভার মিরাজ, ‘প্রথম ম্যাচের পর আমি কিছুটা আপসেট ছিলাম। আজকে (গতকাল) বোলিং করে আমি সত্যিই দারুণ খুশি।’
দলে টিকে থাকার প্রতিযোগিতা কঠিন হচ্ছে উপলব্ধি করতে পেরে তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা থাকবেই। আমি যদি এখানে ভালো না করি আরেকটা খেলোয়াড়ের জন্য আমাকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবেই। কিন্তু আমার কাছে প্রতিযোগিতাটা আমার নিজের সঙ্গেই। আমি সব সময় চেষ্টা করি নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার।’
স্কোরকার্ড
টস :ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ব্যাটসম্যান রান বল ৪ ৬
অ্যামব্রিস ক মিরাজ ব মুস্তাফিজ ৬ ১৫ ১ ০
ওটলে ক তামিম ব মিরাজ ২৪ ৪৪ ২ ১
দা সিলভা ব মিরাজ ৫ ২২ ০ ০
ম্যাকার্থি ব সাকিব ৩ ৭ ০ ০
মোহাম্মদ এলবিডব্লিউ ব সাকিব ১১ ২৬ ০ ০
মায়ার্স রানআউট (শান্ত/মুশফিক) ০ ৯ ০ ০
বনার ব মাহমুদ ২০ ২৫ ১ ০
পাওয়েল স্টা মুশফিক ব মিরাজ ৪১ ৬৬ ২ ১
রেইফার এলবিডব্লিউ ব মিরাজ ২ ১২ ০ ০
জোসেফ ক লিটন ব মুস্তাফিজ ১৭ ২১ ৩ ০
আকিল অপরাজিত ১২ ১৭ ১ ০
অতিরিক্ত (লেবা ১, নো ২, ওয়াইড ৪) ৭
মোট (৪৩.৪ ওভারে অলআউট) ১৪৮
বোলিং :মুস্তাফিজ ৭.৫-৩-১৫-২, রুবেল ৭-০-২৩-০, মাহমুদ ৯-০-৫৪-১, মিরাজ ৯.৪-০-২৫-৪, সাকিব ১০-০-৩০-২।
বাংলাদেশ
লিটন এলবিডব্লিউ আকিল ২২ ২৪ ৪ ০
তামিম ক দা সিলভা ব রেইফার ৫০ ৭৬ ৩ ১
শান্ত ক ওটলে ব মোহাম্মদ ১৭ ২৬ ২ ০
সাকিব অপরাজিত ৪৩ ৫০ ৪ ০
মুশফিক অপরাজিত ৯ ২৫ ০ ০
অতিরিক্ত (নো ১, ওয়াইড ৭) ৮
মোট (৩৩.২ ওভারে, ৩ উইকেট) ১৪৯
বোলিং :জোসেফ ১০-০-৪২-০, মায়ার্স ২-০-১৫-০, আকিল ৯.২-০-৪৫-১, মোহাম্মদ ৭-০-২৯-১, রেইফার ৫-০-১৮-১।
ফল :বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ :এক ম্যাচ হাতে রেখে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচ সেরা :মেহেদী হাসান মিরাজ।
