মুজিববর্ষে সরকারের ঘোষণার আওতায় প্রথম ধাপে আজ ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষে’ এটিই হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার। প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪৯২টি উপজেলায় যুক্ত হয়ে গৃহহীন-ভূমিহীনদের মুজিববর্ষের এ উপহার তুলে দেবেন। এর মধ্যে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর প্রধানমন্ত্রী প্রদান করবেন। এছাড়া ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি গ্রামে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করে তাদের ঘর করে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। ছয় মাসেরও কম সময়ে এ প্রকল্প আজ বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে আরো প্রায় ১ লাখ পরিবারকে ঘর উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। শুধু ঘরই নয়, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত্ ও সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পরিবারগুলোর কর্মসংস্থানেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই ঘরগুলো দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৪১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকায় তৈরি করা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৩৮টি ঘর। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনশীল ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকায় ৩৮ হাজার ৫৮৬টি ঘর এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকায় ৩ হাজার ৬৫টি ঘর নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পগুলোতে মোট ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
ভূমিহীন-গৃহহীনদের যে ঘরগুলো দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর প্রত্যেকটিতে রয়েছে দুটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট এবং একটি লম্বা বারান্দা। এই ঘরের নকশা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই পছন্দ করেছেন। প্রত্যেককে তার জমি ও ঘরের দলিল নিবন্ধন ও নামজারিও করে দেওয়া হচ্ছে। যদি জমি ও ঘরের মূল্য হিসাব করা হয়, তাহলে একেক পরিবার প্রায় ১০ লাখ টাকার সম্পদ পাচ্ছে। মালিকানার ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী দুজনের নামেই জমি নিবন্ধন করা হয়েছে। নিবন্ধনের যে দলিল তাতে স্বামী-স্ত্রী দুজনের নামই থাকছে।
