দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সুলভ মূল্যে এবং খুব সহজে চিকিত্সা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ২০১৫ সালে চালু করা হয় টেলিমেডিসিন সেবা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের উদ্যোগে এ সেবা চালু হলেই অল্প সময়ে এবং সীমিত অর্থে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ রোগীরা উন্নতমানের সেবা গ্রহণ করতে পারে। অন্যান্য টেলিমেডিসিন সেবা হটলাইনভিত্তিক হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিমেডিসিন সেবা মোবাইল ফোন ও কেন্দ্রভিত্তিক। স্থানীয়ভাবে একজন অপারেটর দিয়ে এ টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া হয় প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের। প্রথমদিকে বিভিন্ন অনুদান আসলেও পরবর্তীতে অনুদানের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় জনপ্রিয় মাধ্যম টেলি আপা সেবাটি। এখন শুধু কেন্দ্রভিত্তিক টেলিমেডিসিন সেবা ও হটলাইনভিত্তিক সেবাটি রয়েছে। তাছাড়া স্বল্পমূল্যে চিকিত্সা সেবা দিতে গিয়ে সংকট পড়ে ডাক্তারেরও।
টেলিমেডিসিন সেবার পরিচালক অধ্যাপক ড. খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী বলেন, প্রথমদিকে আমরা ভালো অনুদান পেয়েছিলাম। এটুআই থেকেও সহায়তা করা হয়। তাছাড়া কিছু কোম্পানিও সহায়তা প্রদান করেছিল। এখন অনুদান না থাকায় আমরা টেলি আপার মতো উন্নতমানের সেবাগুলি দিতে পারছি না। কিছুটা আর্থিক সহায়তা পেলেই ভালোভাবেই চলবে এ সেবা।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে ৩১ হাজার রোগীকে। শুধু করোনাকালেই সেবা দেওয়া হয় সাড়ে ৭ হাজার জনকে। এর মধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক সেবা পেয়েছে আড়াই হাজার এবং হটলাইন সেবা পেয়েছে পাঁচ হাজার রোগী। প্রথমদিকে মোবাইল টেলিমেডিসিন কার্যক্রম প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে একজন আরটিও রোগীর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে রোগীকে শহরের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দিতেন। তবে কার্যক্রমে টেলি আপা নিয়োগের জন্য যে খরচ তা গ্রামীণ রোগীদের কাছ থেকে ওঠানো সম্ভব না হওয়ায় এ কার্যক্রমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
চলছে কেন্দ্রভিত্তিক টেলিমেডিসিন কার্যক্রম: টেলি আপা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হলেও কেন্দ্রভিত্তিক টেলিমেডিসিন সেবা চলমান রয়েছে। এ সেবায় এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৪৫টি চিকিত্সা কেন্দ্র সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে অপারেটররা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রথমদিকে ৫০ টাকা ফিতে ডাক্তার দেখানো শুরু করলে ভালো সাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু পরে ফি দুই ধাপে ১৫০ টাকা করা হলে সেবা গ্রহীতার সংখ্যা কমে যায়। তবে তা এখনো চলমান রয়েছে।
অধ্যাপক রাব্বানী জানান, আমরা একটি স্বনির্ভর মডেলে কার্যক্রমটি নিয়ে আসার চেষ্টা করছি যেন রোগীর কাছ থেকে পাওয়া ফির মাধ্যমে কার্যক্রমটি পরিচালনা করা যায়। স্বনির্ভরতার জন্য আমাদেরকে রোগীর ফির পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করে ফেলতে হয়েছিল। এতে রোগীর সংখ্যা প্রায় এক তৃতীয়াংশ হয়ে গিয়েছিল। করোনার সময় মানুষের হাতে টাকা কমে যাওয়ায় সংখ্যাটি আরো একটু কমে গেছে।
যন্ত্রপাতি কী আছে : টেলিমেডিসিন সেবা দিতে কিছু অনলাইন ডায়াগনসিস যন্ত্র ব্যবহার করেন অপারেটর। এসব যন্ত্র হলো ইলেকট্রনিক স্টেথোস্কোপ, ডিজিটাল ইসিজি মেশিন (১২ লিড সম্পন্ন)। এছাড়া চীন থেকে আমদানি করা উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, হেমোগ্লোবিন, গ্লুুকোজ ইত্যাদি মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক রব্বানী জানান, এ সব যন্ত্রের দাম অনেক বেশি। তাছাড়া আমাদের দেশে এ সব যন্ত্র ব্যবহারের সময় নষ্ট হয়ে গেলে মেরামত করার উপায় থাকে না। অনেক ক্ষেত্রেই যন্ত্রটি ফেলে দিতে হয়। তাই আমরা নিজেরাই কিছু যন্ত্র নিজেদের গবেষণায় ডিজাইন করে বানাবার জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি।
নিজেদের সেবা সম্পর্কে তিনি জানান, আমরা খুব ধীরে চলছি। ইতিমধ্যে নিজেদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, আর্থিক অনুদান পেলেই আমাদের সেবাটি আরো এগিয়ে যাবে।
