‘চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত আলমগীর কবিরের দেখানো পথেই চলেছে’

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০৯

চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবির প্রয়াণের ৩০ বছর

ইত্তেফাক রিপোর্ট

চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের প্রয়াণের ৩০ বছর উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি, ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি ও বাংলাদেশ ফিল্ম স্কুল যৌথভাবে আয়োজন করে ‘আলমগীর কবির স্মরণ ও আলমগীর স্মৃতি বক্তৃতা’ পর্ব এবং আলমগীর কবির নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। গত রবিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলমগীর কবির স্মরণে আলোচনা করেন বরেণ্য চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম। আলমগীর কবির স্মৃতি বক্তৃতা করেন চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল। স্মরণ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি চলচ্চিত্র নির্মাতা বেলায়াত হোসেন মামুন। আলোচনা শেষে আলমগীর কবির নির্মিত চলচ্চিত্র ‘রূপালী সৈকতে’ প্রদর্শিত হয়।

মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কবির ভাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তিনি আমাদের প্রজন্মের পরিচালকদের শিক্ষক ছিলেন। তিনি হাতে ধরে আমাদের শিখিয়েছেন কেমন করে আপসহীনভাবে পথ চলতে হয়।

তানভীর মোকাম্মেল বলেন, আলমগীর কবিরকে পাঠ না করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে পাঠ করা যাবে না। কারণ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের যা কিছু নিরীক্ষা, চিন্তার নতুন দিগন্ত তা আলমগীর কবিরের দেখানো পথেই চলেছে। আলমগীর কবির মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। তাঁর লড়াইয়ের ক্ষেত্রটি কখনও চলচ্চিত্র, কখনও সাংবাদিকতা, কখনও যুদ্ধ, কখনও সাংগঠনিক গুরুভার বহনের মধ্য দিয়ে বহমান ছিল। চলচ্চিত্রকার, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবির। স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে প্রভাবশালী চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। ১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারি দুর্ঘটনায় আলমগীর কবির প্রয়াত হন।

কণ্ঠশীলনের নাটক ‘যাদুর লাটিম’ মঞ্চস্থ : কণ্ঠশীলন একাংশ প্রযোজিত মঞ্চনাটক ‘যাদুর লাটিম’-এর একাদশ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হলো শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়। নোবেল বিজয়ী মিসরীয় ঔপন্যাসিক নাগিব মাহফুজের “অ্যারাবিয়ান নাইট্স অ্যান্ড ডে’জ” অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন রাফিক হারিরি। নির্দেশনা দিয়েছেন মীর বরকত।

মধ্যপ্রাচ্যের পটভূমিতে লেখা হলেও নাট্যকার বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট, ব্যক্তিগত দ্বিধাদ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলেছেন নাটকে। অদ্ভুতুরে কাহিনির সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের প্রবহমান ঘটনাবলীর সাযুজ্য ফুটিয়ে তুলতে ফ্যান্টাসী ও রিয়েলিস্টিকের মিশ্রণে ঢেলে সাজানো হয়েছে নাটকটি। গত রবিবার মঞ্চস্থ হওয়া নাটকের মঞ্চসজ্জা, পোশাক ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন ফয়েজ জহির, সংগীত পরিকল্পনা ও সুর সংযোজন করেছেন শিশির রহমান, কোরিওগ্রাফি করেছেন আমিনুল আশরাফ। গান লিখেছেন রাফিক হারিরি ও মীর বরকত। বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেছেন রইস উল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, একেএম শহীদুল্লাহ কায়সার, সোহেল রানা, সালাম খোকন, অনন্যা গোস্বামী, জেএম মারুফ সিদ্দিকী, নিবিড় রহমান, অনুপমা আলম, মো. আব্দুল কাইয়ুম, রুবেল মজুমদার, লায়লা নজরুল, নিশরাত জেবিন নিশি, শেখ সাজ্জাদুর রহমান, তাসিন ইসলাম, মিজানুর রহমান চৌধুরী মিশন ও অনুপ্রভা মণ্ডল।