চরবাসীর উন্নয়নে নীতিমালা ও প্রকল্প প্রণয়নের তাগিদ

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১০

সমুন্নয় ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সংবাদ সম্মেলন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

‘নতুন সরকারের কাছে চরের মানুষের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, চরের এক কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চরনীতিমালা, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও তহবিল গঠন জরুরি। প্রকল্পে থাকতে হবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। চরের মানুষের জন্যে এসব থাকলে তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সমুন্নয় ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স’ যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, চরের মানুষের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় পর্যায়ে চর ফাউন্ডেশন গঠন করা জরুরি। চরের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সরকারকে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে হবে। যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া বিনামূল্যে শিক্ষা ও চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে। এগুলো হলে চরের মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। তিনি আরো বলেন, চরের মানুষের মানব উন্নয়ন সূচক নির্ধারণ করতে হবে। চরের মানুষ এক সময় হলেও জাতির ভাগ্যোন্নয়নে আসবে। এজন্য সরকারকে এখনি পরিকল্পনা নিতে হবে। কেননা চরে অর্থনৈতিক খাতে অবদান রাখার অনেক সম্ভাবনা আছে। আমরা সকল সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছি। তাহলে চরাঞ্চলের মানুষ কেন পিছিয়ে থাকবে। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব জাহিদ রহমান বলেন, সরকারের নানা কর্মসূচি ও পদক্ষেপের পরিধি বাড়লেও দেশের চরাঞ্চলে বসবাসরত ১ কোটি মানুষের উন্নয়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। উল্টো জাতীয় বাজেটে প্রতি বছর বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যাচ্ছে। এজন্য চরাঞ্চলের জন্য উন্নয়ন তহবিল গঠন অতি জরুরি। আর এটি গঠন করা হলে চরের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১০ শতাংশ চরভূমি দেশের প্রায় ৩২টি জেলার ১০০ উপজেলার অংশজুড়ে বিস্তৃত। নদী ভাঙন, বন্যা, খরাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে চরের মানুষদের বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তাই তাদের টেকসই উন্নয়নে সরকারকে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে চরের মানুষের উন্নয়নে চরনীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, চরের মানুষেরা প্রান্তিকের চেয়ে প্রান্তিক। গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। এজন্য আমাদের অনুসন্ধানের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কিছু একটা করা দরকার। সাংবাদিকরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে চরের মানুষের জন্য কিছু করছি কিনা সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য গণমাধ্যম অনুসন্ধানী ও ব্যাখ্যামূলক সংবাদ করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমাদের উচিত প্রান্তিক মানুষগুলোর পাশে থাকা। তাদের নিরাপত্তা, খাদ্য, চিকিত্সা, শিক্ষার সমস্যাগুলো তুলে ধরা। চর বিরাট সম্পদের জায়গা। চর অঞ্চলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য চরনীতিমালা, চরের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও চর অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে তহবিল গঠন করা জরুরি। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবশ্যই এগিয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ম্যানেজার মেহেরাব উল গণি, ফ্রেন্ডশিপের পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন, ওয়াটার এইডের অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার ঘোষ।