ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে নীলকমল নদীর ওপর ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ছয় ফুট প্রস্থের কাঠের সেতুটিই একমাত্র ভরসা সীমান্তবাসীর। সেতুতে রেলিং না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে। নষ্ট পাটাতন ও রেলিংবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের নাখারজান সীমান্তে প্রায় ১০৫টি পরিবারের ৪৫০ জন মানুষ এই কাঠের সেতু দিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এখানে এলাকাবাসীর কংক্রিটের সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। সেতুটি লাগোয়া এক পাশে আন্তর্জাতিক সীমানার মেইন পিলার ৯৪০ ও অন্য পাশে মেইন পিলার ৯৪১ রয়েছে। মাঝেমধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) সদস্যরা টহল দিতে আসে এখানে। নাখারজান সীমান্ত গ্রামটির এক দিকে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া আর তিন দিকে ঘিরে রয়েছে নীলকমল নদী। এই নদীটি কখনো ভারতে আবার কখনো বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
স্থানীয় আশাদুল ইসলাম জানান, ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত নীলকমল নদীর ওপর কাঠের সেতু ছিল। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আর কাঠের সেতু নির্মাণ হয়নি। পরে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে তাদের চলাচল করতে হয়েছে অনেক বছর। ২০১৬ সালে আবার একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছি। তাই স্থায়ীভাবে একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। কৃষক আনিচুর রহমান জানান, এই সেতু দিয়ে শুধু তারা চলাচল করেন না। সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে থাকা ভারতীয়রাও এই সেতু ব্যবহার করে। নাখারজান সীমান্ত গ্রামের সঙ্গে রয়েছে ভারতের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার সেউতি পার্ট-২ গ্রাম। ভারতীয় এই গ্রামটি কাঁটাতারের বাইরে। এখানে প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করে। সন্ধ্যার পর কাঁটাতারের গেট বন্ধ হয়ে গেলে এসব ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের হাটবাজারে আসে এই সেতু দিয়ে।
ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ-হারুন জানান, নীলকমল নদীর ওপর কংক্রিটের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল অনেক বার। কিন্তু বিএসএফের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় নীলকমলের ওপর সেতু নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে অনুমতি পেলে সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, সীমান্ত জটিলতা না হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
