কনকনে ঠান্ডা ও হিম বাতাসে কাঁপছে কমলগঞ্জ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০৫

বাড়ছে শীতজনিত রোগ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

গত কয়েক দিন থেকে কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসের তীব্রতায় কমলগঞ্জ উপজেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও। শীতের কারণে সব ধরনের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঠান্ডার তীব্রতা বেড়ে যায়। সকাল ও রাতের বেলা খড়কুটা জ্বালিয়ে অনেকে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। ঘন কুয়াশায় দিনের বেলায় সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ শীতবস্ত্রের দোকানে ভিড় করছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে গত কয়েক দিন থেকে বইছে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরো কমে গিয়ে শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে, চা-বাগান ও গ্রামগুলোতে শীত বেশি লক্ষ্য করা গেছে। চা-শ্রমিকরা সকালের দিকে গাছের পাতা, লাকড়ি কুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। গবাদি পশুকে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে তাদের গায়ে চটের বস্তা জড়ানো হচ্ছে। শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালে। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম মাহবুবুল আলম ভুঁইয়া বলেন, গত কয়েক দিন ধরে সর্দি, জ্বর, কাশি ও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

চলনবিলে তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন থমকে আছে। ঘরমুখী হয়ে পড়েছে পথচারীরা। শনিবার সারাদিনে মেলেনি সূর্যের দেখা। হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। বিশেষ করে কুয়াশা ও তীব্র শীতে কষ্টে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে বিলপাড়ের দরিদ্র মানুষ পড়েছেন চরম দুর্দশায়। শীতের তীব্রতায় শীতবস্ত্রের দোকানেও ভিড় বেড়েছে। এদিকে শীতের তীব্রতায় স্থানীয় হাসপাতালে নিউমোনিয়া, হাঁপানি, অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। চাটমোহরসহ অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি-জ্বরসহ বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। বিকাল থেকে কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়ছে মানুষ। সন্ধ্যায় ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি।