অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার যত্রতত্র আবর্জনা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৩২

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। এছাড়া ওয়ার্ডগুলোতে অধিকাংশ শৌচাগার বর্তমানে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের পথসহ (সাইকেল গ্যারেজের দিক) হাসপাতাল ভবনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে কোথাও পয়ঃনিষ্কাশনের ময়লা আবার কোথাও নিত্যদিনের ময়লা-আবর্জনা জমে থাকছে দীর্ঘ সময় ধরে। ফলে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তেমনি রোগজীবাণুর সৃষ্টি হচ্ছে।

চিকিত্সার জন্য বেশকিছু দিন থাকতে হবে তাই পরবর্তী হয়রানির আশঙ্কায় নাম-ঠিকানা গোপন রেখে একাধিক রোগী জানান, খুব প্রয়োজন ছাড়া শৌচাগার ব্যবহার করেন না। ৪ নম্বর ওয়ার্ড (কার্ডিওলজি বিভাগ) এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ (পুরুষ) একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, শৌচাগারগুলোর করুণ চিত্র। অনেক শৌচাগারের প্রবেশমুখে নিত্যদিনের খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলা হচ্ছে। কোথাও মলমূত্র জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করছে। অনেকটা নিরুপায় হয়ে রোগীরা প্রকৃতির কাজ সারছেন। এমনকি কোথাও ওয়ার্ড এবং শৌচাগার বিভক্তকারী মূল দরজায় ছোট ছোট একাধিক ভাঙা থাকায় চলমান ঠান্ডায় বেডে থাকা রোগীরা অসহনীয় কষ্ট সহ্য করছেন। শুধু তাই নয়, কখনো কখনো বিড়াল আর কুকুরও সুযোগ পেলে ওয়ার্ডে প্রবেশ করছে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শাহ মো. রফিকুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন কোথাও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলে সেখানে রোগজীবাণু সৃষ্টি হবেই। কিন্তু রমেক হাসপাতালের শৌচাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সত্যি দুরূহ। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর শৌচাগারগুলো মূলত অধিক ব্যবহারের ফলে এই করুণ দশার সৃষ্টি হয়েছে। খাতা-কলমে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগী থাকে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজারের মতো। একেক জন রোগীর জন্য আবার তার সহযোগী থাকেন দুই থেকে তিন জন। তাই তিনি মনে করেন, নতুন কক্ষ তৈরি করে ওয়ার্ডের রোগীর চাপ কমিয়ে এবং শৌচাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ সমস্যার প্রকৃত সমাধান করা সম্ভব।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. রোস্তম আলী বলেন, মূলত ৬০০ শয্যার অবকাঠামো দিয়ে তৈরি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার শয্যার সেবা দিতে হচ্ছে। ২০১২ সালে শেষ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ হয়েছিল। তার পরও বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ১৮৫টি পদ শূন্য। অথচ প্রতিদিন প্রায় ২ হাজারের মতো রোগী থাকছে। পাশাপাশি একেক জন রোগীর সঙ্গে আরো দুই থেকে তিন জন করে থাকছেন। স্বাভাবিকভাবে ওয়ার্ডগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে হাসপাতালের সামনে এক দিকে গ্রিন জোন করার উদ্যোগ নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে রোগীরা রিফ্রেশ হতে পারবেন। এছাড়াও ওয়ার্ডের শৌচাগারগুলো দীর্ঘ সময় কীভাবে কার্যকর রাখা যায় তা নিয়ে গণপূর্তের প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও তিনি জানান।