ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন হন হামিদুল

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৩৫

গ্রেফতার পাঁচ, লুণ্ঠিত মানিব্যাগ উদ্ধার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ছিনতাইকারীদের বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতের শিকার হন ক্যাবল টিভি ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম। যার ফলে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন, মো. সোহেল ওরফে এরাবিয়ান সোহেল, মো. জাহিদ হোসেন, মো. শুক্কুর আলী, মো. শাকিল ওরফে ডুম্বাস ও মো. সোহেল মিয়া। গত সোমবার রাজধানীর উত্তর মুগদা ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত একটি চাকু, একটি মোটরচালিত রিকশা, লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার এসব কথা জানান। উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি বাসায় ফেরার পথে সুপ্রিমকোর্টের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন ক্যাবল টিভি ব্যবসায়ী মো. হামিদুল ইসলাম। ছিনতাইকারীরা তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করায় ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, হামিদুল ইসলাম গত ২৫ বছর ধরে সেগুন বাগিচা এলাকায় ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের ব্যবসা করতেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি সেগুন বাগিচা এলাকায়ই থাকতেন। তিনি জাসদের শাহবাগ থানা এলাকার সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। গত ২৩ জানুয়ারি নিজের পুরান ঢাকার ফ্ল্যাটের ভাড়া তুলে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ডিবি রমনা বিভাগ এ মামলার ছায়া তদন্তের ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, গ্রেফতাররা ঘটনার দিন মোটরচালিত রিকশাযোগে সুপ্রিমকোর্ট মাজার গেটের বিপরীত পাশে এসে অবস্থান করে। আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে ফুটপাতের ওপরে হামিদুর রহমানের গতিরোধ করে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তিনি চিত্কার করলে গ্রেফতারকৃত সোহেল চাকু দিয়ে তার পায়ে ও হাতে আঘাত করে। আহত হামিদুল ইসলামকে ফেলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।