হরিণাকুণ্ডু হয়ে উঠুক মানবতার তীর্থ কেন্দ্র

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৪৩

লালন ফকিরের ভিটা রয়েছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। তাই হরিণাকুণ্ডুর প্রতি আকর্ষণ ও কৌতূহল কত না লালন-ভক্তর হূদমন্দিরে। অথচ হরিণাকুণ্ডুতে স্থাপিত হলো না কোনো তীর্থ কেন্দ্র। লালন ফকিরের জন্ম ১৭৭৪ সালে হরিণাকুণ্ডুর হরিষপুরে আর তাঁর মৃত্যু ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ায়। লালন ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালি—তিনি আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক।

হরিণাকুণ্ডুতে লালন ফকিরের ভিটা ছাড়াও রয়েছে পাঞ্জু শাহর মাজার, চারাতলা বাওড়, কায়েতপাড়া বাওড়, পায়রা দূয়াহ, সাত ব্রিজ, কালা পাহাড়, জোড়াদহে নীলকুঠি, হেরিনা বল ফিল্ড, এক তারার ভাস্কর্য, হরিষপুর সিরাজ সাইর মাজার।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে নবগঙ্গা নদী—পড়ন্ত বিকেলে কিংবা প্রভাতে নবগঙ্গার তীরে দাঁড়ালে কিংবা দূর্বাঘাসের ওপর বসলে মনে পড়বে লালন ফকিরের কথা...

‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে

 লালন বলে জাতের কী রূপ

দেখলাম না এই নজরে

 

কেউ মালায় কেউ তসবি গলায়,

তাইতে যে জাত ভিন্ন বলায়।

যাওয়া কিংবা আসার বেলায়

জাতের চিহ্ন রয় কার রে...’

লালনের আত্মতত্ত্বের এই কথাগুলি একটু ভাবুন। অন্তরে মানবতা, দেশপ্রেম, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি জাগ্রত হবে! হরিণাকুণ্ডু উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় ১৯৮৩ সালের ২৪ মার্চ। কথিত আছে, হরিনারায়ণ কুণ্ডু নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামে নামকরণ হয়েছিল। বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা