নিজের ক্যারিয়ারে নাটকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে এরইমধ্যে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। দেশীয় চলচ্চিত্রের বাইরে কলকাতার ছবিতেও তার অভিনয় বরাবরই প্রশংসিত। অভিনয় মুন্সিয়ানায় নির্মাতা-দর্শকদের মন জয় করা এই অভিনেত্রী নিজের ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, ভবিষ্যত্ ভাবনাসহ চলচ্চিত্রের নানা বিষয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
নানামুখী কাজের সঙ্গে যুক্ত জ্যোতিকা জ্যোতির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি—
বর্তমান অবস্থা বলতে নতুন একটি ছবির কাজ গোছানো নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে। আগামী ৫-৬ মাস পর এর কাজ শুরু হবে। এখন তারই প্রস্তুতি নিচ্ছি। পাশাপাশি শিগগিরই আমার দুটি চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে। সেগুলোর প্রচার-প্রচারণায় সময় দিচ্ছি। এছাড়া ছোটবেলা থেকে রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও এবার পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে আমাকে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্যও নিজেকে সেদিকে মনোযোগী রাখতে হচ্ছে।
নুরুল আলম আতিকের সঙ্গে কাজ করলেন। অভিজ্ঞতা কেমন?
আতিক ভাইয়ের সঙ্গে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ছবিটি শুধু নয়, এর আগেও তার সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছি। নাটক, সিনেমা দুই মাধ্যমেই ওনার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। তিনি খুবই মেধাবী একজন নির্মাতা। অনেক গুছিয়ে কাজ করেন। তার কাজের প্রশংসা কিন্তু সবাই করেন। আর সেই জায়গাটাও তিনি তার কাজের মাধ্যমে তৈরি করেছেন। তার সঙ্গে কাজের বোঝাপড়াটাও আমার সবসময়ই দারুণ থাকে। এক কথায় খুবই তার সঙ্গে কাজে অভিজ্ঞতা আমার খুবই ভালো।
আপনি নাটক ছেড়ে সিনেমায় এলেন, এরপর আবার সক্রিয় রাজনীতিতে। তাহলে কী অভিনয় থেকেও দূরে সরে যাচ্ছেন?
আমি কিন্তু রাজনীতিতে হটাত্ করে আসিনি। রাজনীতিকে আমি আগে থেকেই ছিলাম। মাঝে একটু দূরে থাকলেও এবার সক্রিয়ভাবে কাজে ফিরলাম। আসলে একটি কাজে পড়ে থাকলে তো হবে না। তাছাড়া আমি তো আর নাটক করবো না, শুধু সিনেমা করবো। ছবির কাজ তো প্রতিমাসে থাকে না, বছরে একটি বা দুটি ছবি থাকে। তাই হাতেও প্রচুর সময় থাকে। তাই রাজনীতিতে সময় দিতে আমার কোনো সমস্য হবে না। তবে অভিনয় আমার মূল পেশা। এটা ছাড়া সম্ভব না।
আপনি প্রখ্যাত নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ছবিগুলোর অর্জনের পাল্লাও বেশ ভারী। কিন্তু জ্যোতিকা জ্যোতির ব্যক্তিগত অর্জন শূন্যের কোটায় কেন?
দেখুন, স্বীকৃতি সবারই ভালো লাগে। আমার ছবি দেখে অনেকেই বলেন এবার স্বীকৃতিটা পাবো। কিন্তু পরে আসলে সেটা হয়ে ওঠে না। তবে পুরস্কার দিয়ে তো আর কাজ বিচার করা যায় না। পুরস্কার পাওয়ার জন্য নানারকম ক্যাটাগরি প্রয়োজন, সেটা হয়তো আমি ঠিকমতো পূরণ করতে পারি না। হয়তো জুরিদের কাছে মনে হয় আমি পুরস্কার পাওয়ার যোগ নই। আসলে পুরস্কার পাওয়ার জন্য যে কাজগুলো করতে হয় সেগুলোই হয়তো আমি বুঝি না। এতে আমার রাগ বা অভিমান কিছুই নেই। পুরস্কারের জন্য আমি মরিয়া না। তাছাড়া সময় তো শেষ হয়ে যায়নি। অভিনয়টা করে যেতে চাই। যেহেতু কাজ করছি, নিশ্চয় সেই পাল্পাও ভারী হবে। তবে দর্শকরা আমার কাজের প্রশংসা করেন এটাই আমার অ্যাওয়ার্ড।
আপনাকে গল্প নির্ভর ঘরানার বাইরে দেখা না যাওয়ার কারণ কী?
এ মাসে মহরত হলো পরের মাসেই শুটিং শুরু এ ধরনের কাজ করি না। আমি প্রথমে নাচ-গানে ভরপুর অনেক ছবির অফার পেয়েছি, কিন্তু করিনি। কারণ আমি যে ছবিতে গল্প নেই, সে ধরনের ছবিতে কাজ করতে চাই না। আমি আমার ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছি। আমি যা করতে চেয়েছি সেটাই করছি।
আপনি দুই বাংলার চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। নিজের কাজের অভিজ্ঞতায় দেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
কলকাতায় যারা কাজ করেন তারা খুবই প্রফেশনাল। তারা খুবই শিডিউল মেইনটেইন করেন। তাছাড়া সেখানের দর্শকরা খুবই ভালো। কিন্তু আমাদের দেশের এগুলোর কোনোটাই দেখা যায় না। আমাদের এখানে হল আর বাজেটকে দোষ দেওয়া হয়। তবে আমার মনে হয় বাজেট শুধু সমস্যা নয়। অনেক ভালো বাজেটের ছবিও তো ভালো হয় না। আর হলের অবস্থা খারাপ হলেও দর্শকদের হলে আসতে হবে। না হলে হল মালিকরা তো ব্যবসা মন্দা গেলে হল ব্যবসা ছাড়বেই। চলচ্চিত্রের এই সংকট কাটাতে হলে কাজের প্রতি সততা, ভালোবাসা থাকাটা জরুরি। বাংলাদেশ আসলে সাংস্কৃতিক দিক থেকে দিনদিন পিছিয়ে পড়ছে।
