গানে গানে ওয়াহিদুল হককে স্মরণ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ওয়াহিদুল হক চলে গেছেন চৌদ্দ বছর হল। কিন্তু এখনো দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুহূদ, শিল্পীদের মনে প্রেরণাপুরুষ হয়ে বিরাজ করছেন তিনি। সেই টানেই তার মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল ভোরে ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে এসে মিলিত হয়েছিলেন তার স্নেহস্পর্শ পাওয়া শিল্পী, বন্ধু, ভক্তরা। গানে গানে শ্রদ্ধা জানালেন সবাই।
‘কেন তোমরা আমায় ডাকো, আমার মন না মানে।/ পাই নে সময় গানে গানে।/ পথ আমারে শুধায় লোকে, পথ কি আমার পড়ে চোখে,/ চলি যে কোন্ দিকের পানে গানে গানে’— রবীন্দ্রসঙ্গীতের এই কথার মতই গানের টানে, মানুষের টানে ছুটে বেরিয়েছেন সারাজীবন। করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে গিয়ে সংস্কৃতির এই প্রাণপুরুষ, সংগীতগুরু ওয়াহিদুল হকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও অনানুষ্ঠানিকভাবেই প্রাণের টানে মিলিত হয়েছিলেন অনেকেই। গতকাল বুধবার ওয়াহিদুল হকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ছায়ানটের শিল্পীরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করল এই গুণীকে।
ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের প্রবেশ পথে সবাই বসে সবাই ওয়াহিদুল হকের প্রিয় গান গেয়ে তাকে স্মরণ করেন। সকালে গানের আসরে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের সদস্য, শিক্ষক, শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা। শিল্পীরা একে একে গেয়ে শোনান— ‘সুরের গুরু, দাও গো সুরের দীক্ষা’, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে,’ ‘তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে’, ‘দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ও পারে’, ‘অরূপ, তোমার বাণী’, ‘তোমার প্রেমে ধন্য কর যারে’, ‘বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি’, ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে’, ‘শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান’, ‘জীবন আমার চলছে যেমন তেমনি ভাবে’, ‘আর কত দূরে আছে সে আনন্দধাম’, ‘পরবাসী, চলে এসো ঘরে’, ‘ফিরে ফিরে ডাক দেখি রে পরান খুলে’, ‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে’।
