মাদকাসক্তি নিরাময়ের নামে যা চলত...

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:১১

রংপুর নগরীতে চিকিত্সার নামে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ‘প্রধান মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে’র বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর উলঙ্গ করে গোপনাঙ্গ ও চোখে মরিচের গুঁড়া দেওয়া হতো। এমনকি খাওয়ানো হতো মলমূত্র। এমনটা অভিযোগ করেছেন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সাধীন রোগীরা। নির্যাতনের খবর পেয়ে কেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন রোগীদের স্বজন ও স্থানীয়রা। এ পরিস্থিতিতে নিরাময় কেন্দ্রটি বন্ধ করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর বের হয় লোহার পাইপ দিয়ে এক রোগীকে মারধর করা হয়েছে। খবর পেয়ে রোগীর কয়েক জন স্বজন প্রধান মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যান। এ সময় প্রায় সব রোগী চিকিত্সার নামে নিজেদের ওপর চলা শারীরিক নির্যাতনের ক্ষত দেখিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানান। রোগীরা জানান, লোহার পাইপ দিয়ে তাদের মারধর করা হতো।

এ সময় অনেকে নিজেদের পিঠ, কোমর ও হাঁটুতে সৃষ্ট রক্তাক্ত জখম খুলে দেখান। অপচিকিত্সার লোমহর্ষক নির্যাতনের খবর পেয়ে অন্যান্য রোগীর স্বজনরাও রাতেই ছুটে এসে কেন্দ্রের অভিযুক্ত লোকজনের ওপর         চড়াও হন। পুলিশে খবর দেওয়া হলে অভিযুক্তরা কৌশলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্বজনদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান। তারা জানান, প্রধান মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে মোট ২১ জন রোগী ছিল। তাদের ছোট্ট দুটি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। মাত্র ১০ জন রোগীর চিকিত্সার অনুমতি ছিল প্রতিষ্ঠানটির। যে লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল সেটিও পরে আর নবায়ন করা হয়নি।  রংপুর মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শহিদুল্লাহ কায়সার জানান, শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। রোগীদের সেখান থেকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকাসক্তি নিরাময়ের নামে অপচিকিত্সাসহ বেশকিছু অনিয়ম থাকায় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।