নাছিমা খাতুন
প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের নানা স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার মর্মান্তিক খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। গত কয়েকদিনে দেশে বেশ কয়েকটি নারী ও শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি কেস স্টাডি দেখলে বিষয়ের গভীরতা বোঝা যায়।
কুমিল্লায় নারী নির্যাতনের মামলার রায় পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আনিছুর রহমান নামে এক আইনজীবীর সহকারী ও আরেক আইনজীবীর বাড়ির দারোয়ান লিটন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার অধীন লালমাই উপজেলার শানিচোঁ গ্রামে এক আইনজীবীর নির্জন বাড়িতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। শুধু কুমিল্লার ঘটনাই নয়, ঢাকায় দুই বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর তিন তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা, দুই শিশুকে লিপস্টিকের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা ও পরে হত্যাসহ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিনিয়ত শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শিশুর প্রতি নৃশংসতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, সচেতন মহলে শিশুহত্যা প্রতিরোধের আহ্বান জোরদার হচ্ছে।
শুধু কি আহ্বানেই প্রতিকার সম্ভব? জানতে চেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হকের কাছে। তিনি বলেন, এই সমস্যা কেবল আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এজন্য দরকার সামাজিক প্রচেষ্টা। কমিউনিটিগুলোকে বিভিন্নভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সরকারকে সামাজিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মানুষকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আচরণগতভাবে সুস্থ করতে হলে সরকারের উচিত হবে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো। তাহলে এসব অপরাধ দমন করা সহজ হবে। পাশাপাশি অপরাধীকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থাও নিতে হবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েই চলেছে। গেল বছরে খাগড়াছড়ির নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র তাই বলছে। ২০১৮ সালে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩১৬ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ২৪১ নারী ও ৭৫ জন শিশু। কেউবা শারীরিক, কেউ মানসিক আবার কেউ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আগুন কিংবা এসিডে ঝলসে দেওয়ার ঘটনাও আছে। আর গত ৬ বছরের হিসাব করলে দেখা যাবে, খাগড়াছড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ১৩০ জন। এর মধ্যে ৯৩৭ নারী এবং ১৯৩ জন শিশু। শারীরিক, মানসিক, যৌন, আগুনে পুড়ে কিংবা এসিডে ঝলসে এসব নির্যাতন করা হয়। এক হিসাবে অনূর্ধ্ব ১৮ বছর পর্যন্ত শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর মানসিক নির্যাতন বলতে পারিবারিক কলহ-অশান্তির জেরে বিষপান আর আত্মহত্যার ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে।
