ভালো পরিচালকের অভাবে ভালো শিল্পী তৈরি হয় না:জায়েদ খান

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ২০:১৯

দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা জায়েদ খান। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তবে বেশ কিছুদিন হলো তাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে ছবিপাড়ায়। এমন অবস্থায় কেমন আছেন, কী করছেন এই চিত্রনায়ক? তার সংগঠনের কার্যক্রম চলছে কীভাবে?—এমন নানা প্রশ্নের উত্তরসহ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

এক সময়ের আলোচিত জায়েদ খান এখন ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিচ্ছিন্নই বলা যায়। আজকের এই অবস্থান প্রসঙ্গে কী বলবেন?

আমি তো ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিচ্ছিন্ন নই। নিয়মিতই যাচ্ছি এফডিসিতে। এখন একটু কম যাচ্ছি, কারণ মনটাকে স্থির করতে পারছি না। ক’দিন আগেই বাবা মারা গেলেন। তাই মনটাও খুব ভালো নেই । আর বয়কট শব্দটি কোথায় থেকে আসে। কেউ কাউকে বয়কট করতে পারে না। তাছাড়া আমি তো ১৮ সংগঠন দেখতেই পাই না। কিছু আছে আমার সহযোগী সংগঠন। আর মূল যে প্রযোজক সমিতি, সেটা কী আদৌ আছে!

অনেকেই সাড়া জাগিয়ে চলচ্চিত্রে আসেন। কিন্তু দর্শকপ্রিয়তা বা পরিচালক-প্রযোজকদের ভরসার জায়গায় সবাই প্রায় ব্যর্থ। এ বিষয়ে কী বলবেন?

দেখুন, কাজ করতে করতেই কিন্তু একজন মানুষ ভরসার জায়গায় পৌঁছায়। একজন নায়কের দাঁড়াতে অনেক বছর সময় লাগে। আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, আমাদের দেশের চলচ্চিত্রে যারা দাঁড়িয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই ৪০-৪৫টি ছবি করার পর সফল হয়েছেন। তারা কিন্তু লম্বা সময় ধরে টিকে ছিল বা আছেন। আবার অনেকে হটাত্ এসে, হটাত্ ঝরে যায়। এর কারণ তারা আসার পর তেমন পরিচর্চা পায় না। শিল্পীরা কিন্তু কাঁদামাটি। তাদের যেভাবে পরিচালক তৈরি করবেন সেভাবেই তারা গড়ে উঠবে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো পরিচালকের অভাবে ভালো শিল্পী তৈরি হয় না। তাছাড়া একটি ভালো গল্পও একজন শিল্পীকে তৈরি করে। একজন পরিচালক যদি একটি ভালো গল্পের মাধ্যমে শিল্পীকে তুলে ধরেন তাহলে কিন্তু দর্শকরা তাকে মনে রাখবে। অনেকে ভালো গল্প ও ভালো পরিচালক পেয়ে সাড়া জাগায়, কিন্তু পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা থাকে না বলে হারিয়ে যায়। আমি বলবো একজন ভালো পরিচালক ও একটি ভালো গল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন শিল্পীর জীবনে।

প্রতিটি সংগঠনের নির্বাচনের সময় এলে শিল্পী বা ইন্ডাস্ট্রির নানা উন্নয়নের কথা বলেন। পরবর্তীতে কলহ ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়ে না। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা জায়েদ খানের মন্তব্য কী?

এক্ষেত্রে শিল্পী সমিতি ব্যতিক্রম। আমরা যা বলেছি, করে দেখিয়েছি। বিগত সময়ে এই পদে যারা দাঁড়িয়েছিলেন তারা কিন্তু বলেন, ‘আমরা ৪০ বছরে যা করতে পারিনি তা মিশা-জায়েদ প্যানেল করে দেখিয়েছে।’ শিল্পী সমিতি চলচ্চিত্রকে চাঙা রেখেছে। আর দ্বন্দ্ব-কলহ? এটা শিল্পী সমিতির কাজের প্রতি ঈর্ষাণিত হয়ে করছে। তারা যদি এটা না করে নিজের কাজগুলো মন দিয়ে করতো তাহলে চলচ্চিত্রের এই অবস্থার আরো পরিবর্তন হতো।

কিন্তু আপনি নিজেও তো ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন সংগঠনের একাধিক নেতার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন। এর কারণ কী। সবাই আপনার শত্রু কেন?

আমার ছবি নিয়ে তো কারো সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয়নি। কিন্তু যেখানে আমাদের চলচ্চিত্রের স্বার্থ থাকবে, শিল্পীর স্বার্থ থাকবে, যারা চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে কাজ করবে তাদের সঙ্গে তো মতবিরোধ থাকবেই। এটা ব্যক্তি জায়েদ খানের দ্বন্দ্ব না, শিল্পীদের প্রতিনিধির দ্বন্দ্ব। আমি যখনই শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়েছি তখনই এই দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।

শাকিব খান, ওমর সানী, মৌসুমী, পপির সঙ্গে আপনার দারুণ সম্পর্ক ছিল, কিন্তু এখন তুমুল বিরোধ। হটাত্ এই পরিবর্তন কেন?

তাদের মতো এত বড় বড় শিল্পী আমাকে নিয়ে আলোচনা করেন, আমাকে নিয়ে চিন্তা করেন, এটা ভাবতেই অবাক লাগে। এর চেয়ে ভালো পাওয়া আর কী হতে পারে! তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে তাদের বলতে চাই, আপনারা অনেক সম্মানের, অনেক বড়মাপের শিল্পী। আমি আপনাদের জুনিয়র। আমার যদি কোনো ভুল হয় তাহলে বাইরে আলোচনা না করে, মিডিয়ায় অভিযোগ করে মানুষ না হাসিয়ে আমাকে ডেকে ভুলটা ধরিয়ে দিন। এটা আমাদের ঘরের ব্যাপার। আমরা ঘরের ব্যাপার তো ঘরেই সমাধান করতে পারি। আপনার সংগঠনের সভাপতি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে। এটা সংগঠনের পরিপন্থী কি-না? সভাপতিহীন সংগঠন কীভাবে চলছে?

অবশ্যই না, এটা সংগঠনের পরিপন্থী না। মিশা ভাই পারিবারিক কারণে দেশের বাইরে আছেন। মিশা ভাইয়ের সঙ্গে প্রয়োজনে ভার্চুয়ালি মিটিং করছি। তার দিক-নির্দেশনা ছাড়া একটি কাজও আমরা করছি না। তাছাড়া আমাদের সংবিধানে  বলা আছে, যদি সভাপতি দীর্ঘদিন কোনো কারণে কাজে যোগ দিতে না পারেন তাহলে সহ-সভাপতি সেই দায়িত্ব পালন করবেন। সেক্ষেত্রে আমাদের সংগঠনে দু’জন সহ-সভাপতি আছেন। তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।