‘জসীমউদ্্দীনের কাব্যে উপজীব্য ছিল পল্লীজীবন’
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা ভীতি কাটিয়ে শিশুদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল পাবলিক লাইব্রেরি চত্বর। সেখানে গতকাল উদ্বোধন হয় শিশুদের চলচ্চিত্র উত্সব। ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ স্লোগানে প্রতিবারের মতো এ বছরও রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সব বাংলাদেশ ২০২১’। চিলড্রেনস্ ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের আয়োজনে এটি উত্সবের ১৪তম আসর। গতকাল শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী আয়োজনে পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত গেয়ে ও পায়রা বেলুন উড়িয়ে উত্সবের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও বিশেষ অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। পরে মিলনায়তনে প্রদীপ প্রজ্বালনের পর প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের অনুষ্ঠান সম্পাদক রায়ীদ মোরশেদ মনন। উত্সব সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন উত্সব পরিচালক ফারিহা জান্নাত মিম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রদর্শিত হয় মার্তা কারভোসকা পরিচালিত পোলিশ চলচ্চিত্র ‘ট্রিপল ট্রাবল’। এবারের উত্সবে ঢাকার মোট তিনটি ভেন্যুতে ৩৭টি দেশের ১৭৯টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। আজ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে, ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, বিকাল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মোট ৪টি করে প্রদর্শনী রয়েছে। উত্সবের সব প্রদর্শনী অভিভাবক, শিশু-কিশোরসহ সবার জন্য উন্মুক্ত। ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে সাত দিনের এই চলচ্চিত্র উত্সব।
কবি জসীমউদ্্দীনের কাব্যের পটভূমি ও উপজীব্য ছিল পল্লীজীবন। গতকাল জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত সেমিনারের মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলেন কবি বিমল গুহ।। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মো. বদরুল আরেফীন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট কবি ড. বিমল গুহ। এছাড়া অনলাইনে আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সেমিনার সঞ্চালনা করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।
এছাড়া শিল্পকলার আয়োজনে যাত্রাপালা জমে উঠেছে। গতকাল দ্বিতীয় দিনে যাত্রাপালা মঞ্চস্থ করে পিরোজপুর, বরিশাল ও খুলনার দল। পিরোজপুরের মহাশক্তি নাট্য সংস্থা পরিবেশন করে যাত্রাপালা ‘অনুসন্ধান’, মাতা মঞ্জুলী কাদেরী দেবী নাট্যসংস্থা ‘সীতার বনবাস’, বরিশালের আনন্দময়ী নাট্য সংঘ ‘পতিতপাবন গুরুজী’, শিবশক্তি নাট্য সংস্থা ‘মহারাজা হরিশ্চন্দ্র’, দক্ষিণবঙ্গ নাট্য সংস্থা ‘বিমাতার চক্রান্ত’ এবং খুলনার শ্রী গুরুনাট্য সম্প্রদায় ‘ঢাকা জ্বলছে’। আজ বগুড়ার করতোয়া যাত্রা ইউনিটের যাত্রাপালা পরিবেশন করবে ‘জেল থেকে বলছি’, ঠাকুরগাঁওয়ের দেশ বাংলা অপেরা পরিবেশন করবে ‘কাশেম মালা, বরগুনার পায়রা যাত্রা ইউনিটের ‘গুনাই বিবি’, পঞ্চগড়ের দি লায়ন অপেরার ‘দেবী সুলতানা’ এবং টাঙ্গাইলের মৌ অপেরা পরিবেশন করবে ‘লাইলী মজনু’।
