ফের চিঠি পাঠাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
রিয়াদ হোসেন
ক্রমাগত ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাকে কিছুটা রেহাই দিতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ে কিছুটা ছাড় দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিশেষত বিদ্যমান তিন স্তরের স্থলে এক স্তরে ভ্যাট আদায়ের অনুরোধ ছিল মন্ত্রণালয়ের। তবে এ বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নয় এনবিআর। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ মনে করছে, ভ্যাট এক স্তরে আদায় করা হলে অনেক ব্যবসায়ী ভ্যাটের আওতার বাইরে চলে যাবে। তাদের বিক্রির সঠিক হিসাব রাখা কিংবা তদারকি করা সম্ভব হবে না। এতে তাদের কাছ থেকে প্রকৃত আয়করও আদায় করা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া কিংবা ট্যারিফ মূল্যের ভিত্তিতে আদায় করার সুযোগ নতুন আইনেও নেই। এনবিআরের ভ্যাটসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী বিভাগের এক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনা চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যানের অনুমোদনের পর তা শিগিগরই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
অবশ্য এ বিষয়ে হাল ছেড়ে দিতে রাজি নয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই ইস্যুতে ফের এনবিআরকে চিঠি পাঠাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি ইত্তেফাককে বলেন, এক স্তরে ভ্যাট আগেও নেওয়া হতো। এতে ভ্যাট কমবে না, এতে ব্যবসায়ীদের সুবিধা হতো। কিন্তু তিন স্তরে ভ্যাট নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ঝামেলা বেড়ে যাচ্ছে। আবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাটের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ভোক্ত পর্যায়ে তেলের দামও বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমান সমস্যা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। একই সঙ্গে ভ্যাটের হারও কমানো যায়। এই ইস্যুতে ফের এনবিআরের চিঠি পাঠাব। জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিবেচনায় ভোজ্য তেলের আমদানিতে কোনো শুল্ক নেই। তবে আমদানি, সরবরাহ এবং ব্যবসা—এই তিন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। তিন স্তরের বদলে এক স্তরে ভ্যাট আদায় করতে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া গত তিন মাসে দেশের বাজারে তেলের দাম বেড়েছে হুহু করে। বাজার তথ্য বলছে, আলোচ্য সময়ে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশের ওপরে। মূলত করোনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্য তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বিশ্বব্যাপীই দাম বেড়ে গেছে। তবে প্রতিবেশী ভারতসহ কোনো কোনো দেশ দাম নাগালে রাখা কিংবা ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে শুল্ককর কমিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও তেলের দামে শুল্ক হারে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে চীনসহ কয়েকটি দেশ ভোজ্য তেল আমদানি বাড়িয়েছে। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাসহ বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে রপ্তানি কমছে। অন্যদিকে, শ্রমিক সংকটের কারণে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাম ফল আহরণে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তেলের উত্পাদন কমে গেছে। ফলে আমদানিকারক দেশগুলোতে সংকট বেড়েছে।
দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা বছরে প্রায় ২৮ লাখ টন। এর ৯০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। চাহিদার মোট ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন তেলের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ আর পাম তেলের অংশ ৫০ শতাংশের ওপরে। বাকিটা সরিষা ও অন্যান্য তেল দিয়ে বাকি চাহিদা পূরণ হয়।
