মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতায় আনার জন্য ৪০ বছর চেষ্টা করেছেন রাশিয়ার গোয়েন্দারা। রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থা কেজিবি এক সাবেক গুপ্তচর ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে এ কথা জানান।
শুক্রবার গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়ার সম্পদ হিসেবে তৈরি করেছে
গার্ডিয়ানকে সাক্ষাৎকার দেওয়া কেজিবির সাবেক কর্মকর্তা ৬৭ বছরের ইউরি শেভেৎস ১৯৮০’র দশকে ওয়াশিংটনে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘কেমব্রিজ ফাইভ’ হিসেবে পরিচিত এক গুপ্তচর চক্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলে উল্লেখ করেছেন। এই চক্রটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এবং স্নায়ুযুদ্ধের শুরুর দিকে ব্রিটিশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মস্কোতে পাচার করতো।
আরও পড়ুন: এতো বাজে বিদায় ট্রাম্পের!
ইউরি শেভেৎস বলেন, চেক মডেল ইভানা জেলনিকোভাকে ১৯৭৭ সালে বিয়ে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক ওই সময়ই রাশিয়ার গোয়েন্দাদের নজরে পড়েছিলেন তিনি। তারপর সময়ে সময়ে এই গোয়েন্দারা তাকে এগিয়ে নিয়েছেন। এসব হয়েছে কখনো ট্রাম্পের অজান্তে, আবার কখনো তাঁর জ্ঞাতসারেই। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির এই চেষ্টার চূড়ান্ত ফল আসে ৪০ বছর পর, ২০১৬ সালে। ওই বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হন ট্রাম্প।
রাশিয়ার সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইউরি শভেৎসের দাবি, ট্রাম্পের এই বিজয়ে মস্কোয় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৮৭ সালে ট্রাম্প ও ইভানা প্রথমবারের মতো মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ ভ্রমণ করেন। ইউরি শভেৎসের দাবি, সেখানে কেজিবির গোয়েন্দাদের কথার ফাঁদে পড়েছিলেন ট্রাম্প। এই গোয়েন্দারাই প্রথম তার মাথায় রাজনীতিতে আসার বুদ্ধিটা ঢুকিয়ে দেয়।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর ঐ নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ তদন্তে বিশেষ কাউন্সেল রবার্ট মুলারকে নিয়োগ করা হয়। তবে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ পাননি।
ইত্তেফাক/এআর
